কুশুম্বা মসজিদ

কুশুম্বা মসজিদ

অবস্থানঃ

নওগাঁ জেলার মান্দা উপজেলার কুশুম্বা ইউনিয়নের কুশুম্বা গ্রামে । মসজিদটি নওগাঁ জেলা থেকে মাত্র ৩৫ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত ।

কেন যাবেন , কি দেখবেনঃ

কুশুম্বা গ্রামে গেলে দেখবেন কারুকার্যময় একটি মসজিদ দাঁড়িয়ে আছে । ছয় ফুট পুরু দেওয়ালের মাঝখানে ইট এবং বহিরাঙ্গনে ধূসর বর্নের পাথর বেষ্টিত । দক্ষিণ দিকের প্রাচীরের বাহিরে কতগুলি গুহাজাতীয় হুজরার চিহ্ন রয়েছে । মসজিদ সংলগ্ন বিরাট দিঘির স্বচ্ছ পানি আপনাকে মুগ্ধ করবে । মসজিদটিতে দুটি কালো পাথরের লিপিফলক রয়েছে । এগুলোর একটি আরবি ভাষার ভাবানুবাধলো “আল্লাহ ছাড়া কোন উপাস্য নাই”। হযরত মুহাম্মদ (সঃ) তার প্রেরিত রাসুল”। এছাড়া এই মসজিদের কেন্দ্রীয় মিহরাবটি অলংকরনের জন্য দিক দিয়ে খুবই আকর্ষনীয় ।ছয় গম্বুজ বিশিষ্ট এই মসজিদটি দেখতে অনেকটা “ইমারতের” মত ।

সংক্ষিপ্ত ইতিহাসঃ

নওগাঁর কুশুম্বা মসজিদটি একটি ঐতিহ্যবাহী মসজিদ যা পাঁচ টাকার নোটে আজও দর্শনীয় । ঐতিহ্যবাহী এই মসজিদটি রাজশাহীর বাঘা মসজদের অনুরূপ । কালের সাক্ষী এই কুশুম্বা মসজিদের নামকরন হয় বাদশা হোসেন শাহের স্ত্রী কুশুম্বা বিবির নামানুসারে । সে সময়ে বাদশা হোসেন শাহের কারাগারে কালা পাহার নামে এক কৃতদাস বন্দি হয় । কারাগারের গহিনে গভীর রাতে কালা পাহার মধুর সুরে বাশি বাজালে রানী কুশুম্বা বিবি বাঁশির সুরে মুগ্ধ হয়ে ছুটে যান কালাপাহারকে দেখতে । বাদশা এ খবর জানতে পেরে অপরাধের শাস্তি হিসেবে রানীকে নির্বাসনে পাঠান । রানী কুশুম্বা তখন নির্জন জায়গায় খড়ের ছাউনি দিয়ে তৈরী কুঁড়েঘরে বসবাস শুরু করেন । তার নামানুসারে গ্রাম ও মসজিদের নামকরন করা হয় কুশুম্বা ।

কালোপাহারে তৈরী আরবি ভাষা উ ৎ কীর্ন লিপি ফলক  অনুযায়ী সুলতান গিয়াসউদ্দীন বাহাদুর শাহের শাসনামলে (১৫৫৪-১৫৬০) সালে জনৈক সোলায়মান ১৫৫৮ খ্রিষ্টাব্দে এ মসজিদটি নির্মান করেছিলেন । এখানে মত পার্থক্য এই সোলাইমান কোরআনী না সোলাইমান বাদশা । অনেকের মতে সোলাইমান ছিলেন গিয়াসউদ্দীনের কাছে যুদ্ধে পরাজিত বন্দী এক জমিদার । পরবর্তীতে বাদশা উপাধি লাভ করেন । প্রায় ৪০ একর জমির উপর লম্বা একটি দীঘির পশ্চিম পাড়ে অবস্থিত এই মসজিদটি পরিমাপে ৫৮’*৪২’ এবং দেওয়াল ৬ ফুট প্রশস্ত । ২য় গম্বুজ বিশিষ্ট মসজিদটির চারকোনে অষ্টভুজ আকৃতির পিলার রয়েছে । মসজিদের মেহরাবের উপর আড়াই ইঞ্চি পিতবর্নের উপর একটি গুনকীর্তন রয়েছে । অনেকে মনে করেন ১৫০০ খ্রীঃ বাদশা হোসেন শাহ নির্মান করতে গিয়ে অসমাপ্ত থেকে যায় । মসজিদটি দেখার জন্যে সব মৌসুমে পর্যটক ও সৌন্দর্য পিপাসু মানুষের ভিড় জমে একসময় মসজিদের চারিদিকে প্রস্তর নির্মিত প্রাচীর ছিল এবং দক্ষিণ দিকে কাল পাথরের কারুকার্যময় তোরনদ্বার ছিল । এখন সে সব আর নেই ।

১৯ শতকের গোড়ার দিকে মসজিদটির তিনটি গম্বুজ ধ্বংস প্রাপ্ত হলেও স্থানীয় গ্রামবাসীর উদ্যোগে তা পুননির্মান করা হয় । মসজিদটি রক্ষণাবেক্ষণের জন্য প্রায় ৭০০ বিঘা আয়াম জমি ছিল । খাদেমদের মধ্যে মামলা মোকদ্দমায় , আজ তার কিছু অবশিষ্ট নাই বললেই চলে । বগুড়ার প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ এর দেখভালের দায়িত্বে থাকলেও তাঁরা এর সংরক্ষণের বিশেষ কোন ব্যবস্থা নেয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে । অযত্ন আর অবহেলায় এর দেওয়ালে ফাটল দেখা দিয়েছে । তারপরও বিপুল সংখ্যক দর্শনার্থী এই মসজিদটি দেখতে আসে অনেকে আসেন মানত নিয়ে ।

যাতায়ত ব্যবস্থাঃ নওগাঁ বালুডাংগা বাস টার্মিনাল হতে সরাসরি বাস যোগে ঐতিহাসিক মান্দার কুশুম্বা মসজিদে যাওয়া যায় । বালুডাংগার বাস টার্মিনাল থেকে আনুমানিক দূরুত্ব ৩৫ কিঃমিঃ এবং বাসভাড়া ৩০/ ।

কোথায় থাকবেনঃ জনসাধারণের জন্য কুসুম্বা মসজিদে থাকার কোন ব্যবস্থা নেই । দিনে যেয়ে দিনেই ফিরে আসতে হবে অথবা উপজেলা সদর বা জেলা সদরে থাকা যাবে ।

নিকটবর্তী অন্যান্য দর্শনীয় স্থানঃকুশুম্বা মসজিদের প্রায় তিনশত গজ পূর্ব কোনে সোনাবিবির মসজিদ রয়েছে

লেখকঃ সোনিয়া আক্তার

মৃত্তিকা, পানি  ও পরিবেশ বিভাগ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

বিঃদ্রঃ বাংলাকোষ কোনো সংবাদপত্র নয়, এটি মূলত একটি আর্কাইভ। বাংলাকোষ এ প্রকাশিত সকল তথ্য কপিরাইট এর অন্তর্ভুক্ত। সুতরাং কোনো পূর্বানুমতি ছাড়া বাংলাকোষের কোনো তথ্য ব্যবহার করা যাবে না। তবে অব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলো সূত্রসহ ব্যবহার করতে পারবে।