বায়েজিদ বোস্তামীর মাজার

বায়েজিদ বোস্তামীর মাজার

অবস্থানঃ

বায়েজিদ বোস্তামীর মাজার চট্টগ্রাম এর নাসিরাবাদের একটি পাহাড়ের উপরে অবস্থিত । চট্টগ্রাম শহর থেকে নাসিরাবাদের দূরত্ব ৫ মাইল । এটি শহরের উত্তরে অবস্থিত । ইরানের বিখ্যাত পার্সিয়ান সুফি বায়েজিদ বোস্তামীর নামে এ মসজিদটি গড়ে উঠেছিল ।

কেন যাবেন, কি দেখবেনঃ

নাসিরাবাদ গেলে আপনি দেখতে পাবেন ঐতিহ্যবাহী বায়েজিদ বোস্তামীর মাজার যা অনেকটা সমাধি পাহারের ন্যায় । এই সমাধি পাহারের পাদদেশে একটি তিন গম্বুজ বিশিষ্ট মোঘল রীতির আয়তাকার মসজিদ এবং একটি বিশালাকার দীঘি আছে । মাঝের গম্বুজটি আকারে বড়। মসজিদের চার কোনায় চারটি সংযুক্ত অষ্টভুজ আকৃতির । অনুরূপভাবে কিবলা দেওয়ালের মিহরাবটির পিছনের দিকে অভিক্ষেপ আছে । ইমারতটির প্রবেশ পথ দুসারি শরছিদ্র দ্বারা সজ্জিত । মাজারের পাদদেশে গেলে দেখতে পাবেন দীঘির বাসিন্দা হিসেবে সেখানে রয়েছে বোস্তামীর  কাছিম ও গজার মাছ । আঞ্চলিকভাবে এদের মাজারী ও গাজারী বলে আখ্যায়িত করা হয় । বোস্তামীর কাছিম আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত একটি অত্যন্ত বিরল এবং চরমভাবে বিপন্ন প্রায় প্রজাতি ।

সংক্ষিপ্ত ইতিহাসঃ

বায়েজিদ বোস্তামীর মাজারটাও মূলক উনাকে উ ৎ সর্গ করে প্রতিষ্ঠিত একটি প্রতিরূপ মাত্র । ধারনা করা হয় মসজিদটি মুঘল আমলে নির্মিত । এই সমাধির অবয়ব সর্বপ্রথম ১৮৩১ সালে পাহাড়ের উপরিভাগে একটি দেওয়ালঘেরা আঙ্গিনার মাঝে আবিষ্কার করা হয় । আঙ্গিনার ঠিক মাঝামাঝি৩.৬৫ মিটার দৈর্ঘ্য এবং ২.৭৫ মিটার প্রস্থের একটি শবধার অবস্থিত এবং এর শীর্ষে আছে কিছু ঝিনুক এবং প্রবালের আস্তরন । দেওয়ালের প্রতিটি পাশের দৈর্ঘ্য ৯ মিটার এবং ব্যাটের মেন্ট সহ উচ্চতা ৪.৫ মিটার , এর উপরে প্রতি কোনায় ০.৬১ মিটার উচু একটি স্তম্ভ আছে । এলাকার জলশ্রুতি অনুযায়ী-

বায়েজীদ বোস্তামীর চট্টগ্রামে আগমনের ইতিহাস শুনতে পাওয়া যায় । চট্টগ্রামে অবস্থানের পরে প্রস্থানকালে ভক্তকূল তাকে থেকে যাবার অনুরোধ করলে উনি তাদের ভালোবাসা ও ভক্তিতে মুগ্ধ হয়ে কনিষ্ঠ আঙ্গুল কেটে কয়েক ফোটা রক্ত মাটিতে পড়ে যেতেদেন এবং ঐ স্থানে উনার নামে মাজার গড়ে তুলবার কথা বলে যান । এই জনশ্রুতির স্বপক্ষে অষ্টাদশ শতাব্দীর চট্টগ্রামের কিছু কবির কবিতায় উল্লেখ করা হয় সেখানে শাহ সুলতান নামক একজন মনিষীর নাম বর্নিত আছে । বায়েজিদ বোস্তামীকে যেহেতু সুলতান উল আরেফীন হিসাবে আখ্যায়িত করা হয় সেই সূত্র এই শাহ সুলতান উল আরেফীন কে একই ব্যক্তি হিসেবে ধরে নেওয়া হয় । ভক্ত কূলের ধারনা এই অঞ্চলে প্রচুর দুষ্ট জ্বীন এবং পাপীষ্ঠ আত্নার পদচারনা ছিলো । বায়েজীদ বোস্তামী তার এই অঞ্চলে ভ্রমনকালে এই সব দুষ্ট আত্নাকে শাস্তিস্বরূপ কাছিমকে পরিণত করেন এবং আজীবন পুকুরে বসবাসের দন্ডাদেশ প্রদান করেন । দরগাহ রক্ষনাবেক্ষনের জন্য অর্থাৎ এই মসজিদটি রক্ষণাবেক্ষণের জন্য রয়েছে একটি ওয়াকফ এস্টেট । এ এস্টেটের আয় থেকে দরগাহ সব খরচ পাতি বহন করা হয় । দরগাহ সংরক্ষণের ভার চট্টগ্রাম এন্ডাউমেন্ট কমিটির উপর ন্যস্ত রয়েছে । চট্টগ্রামের ধর্মপ্রান মানুষের পাশাপাশি চট্টগ্রামে আসা দেশী বিদেশী পর্যটকদের জন্যও একটি অত্যন্ত আকর্ষনীয় স্থান ।

যাতায়াত ব্যবস্থাঃ

লেখকঃ সোনিয়া আক্তার

মৃত্তিকা, পানি  ও পরিবেশ বিভাগ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

বিঃদ্রঃ বাংলাকোষ কোনো সংবাদপত্র নয়, এটি মূলত একটি আর্কাইভ। বাংলাকোষ এ প্রকাশিত সকল তথ্য কপিরাইট এর অন্তর্ভুক্ত। সুতরাং কোনো পূর্বানুমতি ছাড়া বাংলাকোষের কোনো তথ্য ব্যবহার করা যাবে না। তবে অব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলো সূত্রসহ ব্যবহার করতে পারবে।