চট্টগ্রাম বিভাগ

চট্টগ্রাম বিভাগের জেলা সমূহঃ

 

ঢাকা বিভাগ

ঢাকা বিভাগের জেলা সমূহঃ

National University Bangladesh

National University
Board Bazar, Gazipur-1704
Bangladesh.
880-2-9291018-23, 880-2-9291055-64 (Auto Hunting).
Fax: 880-2-8110852, 9291049, 9291072, 9291037,92910150.
Web Site: www.nu.edu.bd
E-mail: webadmin@nu.edu.bd

No

Subject

01 National University Admission Information(Hon’s) nuadmission.com
02 Hon’s Admission Circular
03 Hon’s Admission Result
04 Hon’s Admission Circular (After Result)
05 Masters Admission Circular
06 Masters Admission Result
07 Masters Admission Notice(After Result)
08 Degree (Pass Course) Admission Circular
09 List of Colleges Under National University
10 Accademic Exam Result(Degree/Hon’s/BBA/Masters)
11 Notice Board
12 Download National University Form
13
14

List of Colleges Under National University

 

বায়েজিদ বোস্তামীর মাজার

বায়েজিদ বোস্তামীর মাজার

অবস্থানঃ

বায়েজিদ বোস্তামীর মাজার চট্টগ্রাম এর নাসিরাবাদের একটি পাহাড়ের উপরে অবস্থিত । চট্টগ্রাম শহর থেকে নাসিরাবাদের দূরত্ব ৫ মাইল । এটি শহরের উত্তরে অবস্থিত । ইরানের বিখ্যাত পার্সিয়ান সুফি বায়েজিদ বোস্তামীর নামে এ মসজিদটি গড়ে উঠেছিল ।

কেন যাবেন, কি দেখবেনঃ

নাসিরাবাদ গেলে আপনি দেখতে পাবেন ঐতিহ্যবাহী বায়েজিদ বোস্তামীর মাজার যা অনেকটা সমাধি পাহারের ন্যায় । এই সমাধি পাহারের পাদদেশে একটি তিন গম্বুজ বিশিষ্ট মোঘল রীতির আয়তাকার মসজিদ এবং একটি বিশালাকার দীঘি আছে । মাঝের গম্বুজটি আকারে বড়। মসজিদের চার কোনায় চারটি সংযুক্ত অষ্টভুজ আকৃতির । অনুরূপভাবে কিবলা দেওয়ালের মিহরাবটির পিছনের দিকে অভিক্ষেপ আছে । ইমারতটির প্রবেশ পথ দুসারি শরছিদ্র দ্বারা সজ্জিত । মাজারের পাদদেশে গেলে দেখতে পাবেন দীঘির বাসিন্দা হিসেবে সেখানে রয়েছে বোস্তামীর  কাছিম ও গজার মাছ । আঞ্চলিকভাবে এদের মাজারী ও গাজারী বলে আখ্যায়িত করা হয় । বোস্তামীর কাছিম আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত একটি অত্যন্ত বিরল এবং চরমভাবে বিপন্ন প্রায় প্রজাতি ।

সংক্ষিপ্ত ইতিহাসঃ

বায়েজিদ বোস্তামীর মাজারটাও মূলক উনাকে উ ৎ সর্গ করে প্রতিষ্ঠিত একটি প্রতিরূপ মাত্র । ধারনা করা হয় মসজিদটি মুঘল আমলে নির্মিত । এই সমাধির অবয়ব সর্বপ্রথম ১৮৩১ সালে পাহাড়ের উপরিভাগে একটি দেওয়ালঘেরা আঙ্গিনার মাঝে আবিষ্কার করা হয় । আঙ্গিনার ঠিক মাঝামাঝি৩.৬৫ মিটার দৈর্ঘ্য এবং ২.৭৫ মিটার প্রস্থের একটি শবধার অবস্থিত এবং এর শীর্ষে আছে কিছু ঝিনুক এবং প্রবালের আস্তরন । দেওয়ালের প্রতিটি পাশের দৈর্ঘ্য ৯ মিটার এবং ব্যাটের মেন্ট সহ উচ্চতা ৪.৫ মিটার , এর উপরে প্রতি কোনায় ০.৬১ মিটার উচু একটি স্তম্ভ আছে । এলাকার জলশ্রুতি অনুযায়ী-

বায়েজীদ বোস্তামীর চট্টগ্রামে আগমনের ইতিহাস শুনতে পাওয়া যায় । চট্টগ্রামে অবস্থানের পরে প্রস্থানকালে ভক্তকূল তাকে থেকে যাবার অনুরোধ করলে উনি তাদের ভালোবাসা ও ভক্তিতে মুগ্ধ হয়ে কনিষ্ঠ আঙ্গুল কেটে কয়েক ফোটা রক্ত মাটিতে পড়ে যেতেদেন এবং ঐ স্থানে উনার নামে মাজার গড়ে তুলবার কথা বলে যান । এই জনশ্রুতির স্বপক্ষে অষ্টাদশ শতাব্দীর চট্টগ্রামের কিছু কবির কবিতায় উল্লেখ করা হয় সেখানে শাহ সুলতান নামক একজন মনিষীর নাম বর্নিত আছে । বায়েজিদ বোস্তামীকে যেহেতু সুলতান উল আরেফীন হিসাবে আখ্যায়িত করা হয় সেই সূত্র এই শাহ সুলতান উল আরেফীন কে একই ব্যক্তি হিসেবে ধরে নেওয়া হয় । ভক্ত কূলের ধারনা এই অঞ্চলে প্রচুর দুষ্ট জ্বীন এবং পাপীষ্ঠ আত্নার পদচারনা ছিলো । বায়েজীদ বোস্তামী তার এই অঞ্চলে ভ্রমনকালে এই সব দুষ্ট আত্নাকে শাস্তিস্বরূপ কাছিমকে পরিণত করেন এবং আজীবন পুকুরে বসবাসের দন্ডাদেশ প্রদান করেন । দরগাহ রক্ষনাবেক্ষনের জন্য অর্থাৎ এই মসজিদটি রক্ষণাবেক্ষণের জন্য রয়েছে একটি ওয়াকফ এস্টেট । এ এস্টেটের আয় থেকে দরগাহ সব খরচ পাতি বহন করা হয় । দরগাহ সংরক্ষণের ভার চট্টগ্রাম এন্ডাউমেন্ট কমিটির উপর ন্যস্ত রয়েছে । চট্টগ্রামের ধর্মপ্রান মানুষের পাশাপাশি চট্টগ্রামে আসা দেশী বিদেশী পর্যটকদের জন্যও একটি অত্যন্ত আকর্ষনীয় স্থান ।

যাতায়াত ব্যবস্থাঃ

লেখকঃ সোনিয়া আক্তার

মৃত্তিকা, পানি  ও পরিবেশ বিভাগ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

কুশুম্বা মসজিদ

কুশুম্বা মসজিদ

অবস্থানঃ

নওগাঁ জেলার মান্দা উপজেলার কুশুম্বা ইউনিয়নের কুশুম্বা গ্রামে । মসজিদটি নওগাঁ জেলা থেকে মাত্র ৩৫ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত ।

কেন যাবেন , কি দেখবেনঃ

কুশুম্বা গ্রামে গেলে দেখবেন কারুকার্যময় একটি মসজিদ দাঁড়িয়ে আছে । ছয় ফুট পুরু দেওয়ালের মাঝখানে ইট এবং বহিরাঙ্গনে ধূসর বর্নের পাথর বেষ্টিত । দক্ষিণ দিকের প্রাচীরের বাহিরে কতগুলি গুহাজাতীয় হুজরার চিহ্ন রয়েছে । মসজিদ সংলগ্ন বিরাট দিঘির স্বচ্ছ পানি আপনাকে মুগ্ধ করবে । মসজিদটিতে দুটি কালো পাথরের লিপিফলক রয়েছে । এগুলোর একটি আরবি ভাষার ভাবানুবাধলো “আল্লাহ ছাড়া কোন উপাস্য নাই”। হযরত মুহাম্মদ (সঃ) তার প্রেরিত রাসুল”। এছাড়া এই মসজিদের কেন্দ্রীয় মিহরাবটি অলংকরনের জন্য দিক দিয়ে খুবই আকর্ষনীয় ।ছয় গম্বুজ বিশিষ্ট এই মসজিদটি দেখতে অনেকটা “ইমারতের” মত ।

সংক্ষিপ্ত ইতিহাসঃ

নওগাঁর কুশুম্বা মসজিদটি একটি ঐতিহ্যবাহী মসজিদ যা পাঁচ টাকার নোটে আজও দর্শনীয় । ঐতিহ্যবাহী এই মসজিদটি রাজশাহীর বাঘা মসজদের অনুরূপ । কালের সাক্ষী এই কুশুম্বা মসজিদের নামকরন হয় বাদশা হোসেন শাহের স্ত্রী কুশুম্বা বিবির নামানুসারে । সে সময়ে বাদশা হোসেন শাহের কারাগারে কালা পাহার নামে এক কৃতদাস বন্দি হয় । কারাগারের গহিনে গভীর রাতে কালা পাহার মধুর সুরে বাশি বাজালে রানী কুশুম্বা বিবি বাঁশির সুরে মুগ্ধ হয়ে ছুটে যান কালাপাহারকে দেখতে । বাদশা এ খবর জানতে পেরে অপরাধের শাস্তি হিসেবে রানীকে নির্বাসনে পাঠান । রানী কুশুম্বা তখন নির্জন জায়গায় খড়ের ছাউনি দিয়ে তৈরী কুঁড়েঘরে বসবাস শুরু করেন । তার নামানুসারে গ্রাম ও মসজিদের নামকরন করা হয় কুশুম্বা ।

কালোপাহারে তৈরী আরবি ভাষা উ ৎ কীর্ন লিপি ফলক  অনুযায়ী সুলতান গিয়াসউদ্দীন বাহাদুর শাহের শাসনামলে (১৫৫৪-১৫৬০) সালে জনৈক সোলায়মান ১৫৫৮ খ্রিষ্টাব্দে এ মসজিদটি নির্মান করেছিলেন । এখানে মত পার্থক্য এই সোলাইমান কোরআনী না সোলাইমান বাদশা । অনেকের মতে সোলাইমান ছিলেন গিয়াসউদ্দীনের কাছে যুদ্ধে পরাজিত বন্দী এক জমিদার । পরবর্তীতে বাদশা উপাধি লাভ করেন । প্রায় ৪০ একর জমির উপর লম্বা একটি দীঘির পশ্চিম পাড়ে অবস্থিত এই মসজিদটি পরিমাপে ৫৮’*৪২’ এবং দেওয়াল ৬ ফুট প্রশস্ত । ২য় গম্বুজ বিশিষ্ট মসজিদটির চারকোনে অষ্টভুজ আকৃতির পিলার রয়েছে । মসজিদের মেহরাবের উপর আড়াই ইঞ্চি পিতবর্নের উপর একটি গুনকীর্তন রয়েছে । অনেকে মনে করেন ১৫০০ খ্রীঃ বাদশা হোসেন শাহ নির্মান করতে গিয়ে অসমাপ্ত থেকে যায় । মসজিদটি দেখার জন্যে সব মৌসুমে পর্যটক ও সৌন্দর্য পিপাসু মানুষের ভিড় জমে একসময় মসজিদের চারিদিকে প্রস্তর নির্মিত প্রাচীর ছিল এবং দক্ষিণ দিকে কাল পাথরের কারুকার্যময় তোরনদ্বার ছিল । এখন সে সব আর নেই ।

১৯ শতকের গোড়ার দিকে মসজিদটির তিনটি গম্বুজ ধ্বংস প্রাপ্ত হলেও স্থানীয় গ্রামবাসীর উদ্যোগে তা পুননির্মান করা হয় । মসজিদটি রক্ষণাবেক্ষণের জন্য প্রায় ৭০০ বিঘা আয়াম জমি ছিল । খাদেমদের মধ্যে মামলা মোকদ্দমায় , আজ তার কিছু অবশিষ্ট নাই বললেই চলে । বগুড়ার প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ এর দেখভালের দায়িত্বে থাকলেও তাঁরা এর সংরক্ষণের বিশেষ কোন ব্যবস্থা নেয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে । অযত্ন আর অবহেলায় এর দেওয়ালে ফাটল দেখা দিয়েছে । তারপরও বিপুল সংখ্যক দর্শনার্থী এই মসজিদটি দেখতে আসে অনেকে আসেন মানত নিয়ে ।

যাতায়ত ব্যবস্থাঃ নওগাঁ বালুডাংগা বাস টার্মিনাল হতে সরাসরি বাস যোগে ঐতিহাসিক মান্দার কুশুম্বা মসজিদে যাওয়া যায় । বালুডাংগার বাস টার্মিনাল থেকে আনুমানিক দূরুত্ব ৩৫ কিঃমিঃ এবং বাসভাড়া ৩০/ ।

কোথায় থাকবেনঃ জনসাধারণের জন্য কুসুম্বা মসজিদে থাকার কোন ব্যবস্থা নেই । দিনে যেয়ে দিনেই ফিরে আসতে হবে অথবা উপজেলা সদর বা জেলা সদরে থাকা যাবে ।

নিকটবর্তী অন্যান্য দর্শনীয় স্থানঃকুশুম্বা মসজিদের প্রায় তিনশত গজ পূর্ব কোনে সোনাবিবির মসজিদ রয়েছে

লেখকঃ সোনিয়া আক্তার

মৃত্তিকা, পানি  ও পরিবেশ বিভাগ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়