রথীন্দ্রকান্ত ঘটক চৌধুরী

রথীন্দ্রকান্ত ঘটক চৌধুরী(১৯২১-১৯৮৪)

জন্ম ও পরিচয়

বিখ্যাত সাহিত্যিক, সাংবাদিক  ও রাজনীতিবিদ রথীন্দ্রকান্ত ঘটক চৌধুরী ১৯২১ সালের ২৬ শে ডিসেম্বর (বাংলা ১১ পৌষ ১৩২৮) শরীয়তপুর জেলার পালং  থানার দক্ষিণ বালুচর গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন। তার পিতার নাম সূর্যকান্ত ঘটক চৌধুরী ও মাতার নাম রত্নাবালা দেবী। সূর্যকান্ত ঘটক চৌধুরী ছিলেন ঐ অঞ্চলের জমিদার। তার ছিল দশ সন্তান(রবীন্দ্রকান্ত, মঙ্গলা, রথীন্দ্রকান্ত, ঊষা, উজ্জলা, কমলা, বেলা, রমেন্দ্র, গীতা, দীপেন্দ্র।  তাদের মধ্যে রথীন্দ্রকান্ত ঘটক চৌধুরী ছিল তৃতীয়। রথীন্দ্রকান্ত ঘটক চৌধুরীর দাদা (সূর্যকান্ত ঘটক চৌধুরীর বাবা) রজনীকান্ত ঘটক চৌধুরী ছিলেন পালং এর বিখ্যাত জমিদার এবং তার পেশা ছিল ওকালতি। তবে রজনীকান্তের পূর্বের বাড়ি ছিল নড়িয়া উপজেলার রাজনগরে। পরবর্তীতে তারা বর্তমান পালং উপজেলার বালুচর গ্রামে স্থায়ী নিবাস গড়েন।  সে সময় বালুচর গ্রাম ছিল ঢাকা জেলার কলাগাছিয়া থানার অন্তর্গত।

শিক্ষা জীবন

রথীন্দ্রকান্ত ঘটক চৌধুরীর শিক্ষা জীবন শুরু হয় তুলাসার গুরুদাস উচ্চ ইংরেজী বিদ্যালয় থেকে। ১৯৩৯ সালে তিনি এ বিদ্যালয় থেকে প্রবেশিকা পরীক্ষায় পাশ করেন। এ বিদ্যালয়ে তিনি শিক্ষক হিসেবে পেয়েছিলেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, লেখক ও কলকাতা থেকে প্রকাশিত  ‘অরণি’ ও ‘অগ্রণী’ পত্রিকার সম্পাদক স্বর্ণকমল ভট্টাচার্যকে। প্রবেশিকা পাশ করার পর বাংলা ১৩৪৪ সালে তিনি ভর্তি হন শান্তিনিকেতনে। শান্তিনিকেতনে পড়া শেষে ১৯৪১ সালে রথীন্দ্রকান্ত ভর্তি হন কলকাতার বিদ্যাসাগর কলেজে বি.এ. ক্লাসে। তবে তিনি সেখানে বি.এ. পরীক্ষা দেওয়া হয়নি ।  দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় কলকাতায় ব্যাপক বোমাবাজি হলে তিনি বাধ্য হয়েই দেশে ফিরে আসেন।

সাহিত্যের সূচনা

রথীন্দ্রকান্ত ঘটক চৌধুরীর বাবা ও দাদা সবাই ছিল শিক্ষিত ও সাংস্কৃতমনা। তাদের বাড়িতেই  লাইব্রেরী ছিল । তার বাবা সূর্যকান্ত ঘটক চৌধুরী চৌধুরী সারা জীবন তিলে তিলে গড়ে তুলেছেন বিশাল এক বই ভাণ্ডার। সেখানে সংরক্ষিত ছিল বাংলা ও ইংরেজি ভাষার বই ও দুর্লভ পত্র-পত্রিকা। তাই ছেলেবেলা থেকেই তিনি পড়তেন এসব বইপত্র। এছাড়া তার বড় ভাই রবীন্দ্রকান্ত ঘটক চৌধুরী পড়তেন শান্তিনিকেতনে। আর সেই সুবাদে তিনি ভাইয়ের কাছে রনীন্দ্রনাথ সম্পর্কে শুনতেন এবং তার বই খুব সহজেই পেতেন। আর এ থেকেই সাহিত্যের প্রতি তার আগ্রহ আরও  বেড়ে যায়।

রবীন্দ্র ভক্ত

রথীন্দ্রঘটক চৌধুরীর পরিবারের সবাই ছিল রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ভক্ত। ১৯৬১ সালে ঢাকা শহরে রবীন্দ্র শতবার্ষিকী অনুষ্ঠান আয়োজনে রথীন্দ্রনাথের বাবা মুখ্য ভূমিকা পালন করেন। তার বড় ভাই রবীন্দ্রঘটক চৌধুরী ১৯৩৭ সালের জুলাই মাসে শান্তিনিকেতনে ভর্তি হন। সেখানে তার ঘনিষ্ট সহপাঠিনী ছিল ভারতের সাবেক প্রধান মন্ত্রী ইন্দ্রিরা গান্ধী। রবীন্দ্রঘটক চৌধুরীর সাথে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সাথে ভাল সম্পর্ক ছিল । সেখানে তিনি ছিলেন নাট্য সম্পাদক। রথীন্দ্রঘটক চৌধুরী তুলাসার গুরুদাস উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ার সময় কবি রবীন্দ্রনাথ থাকুরকে চিঠি লিখেছিলেন রবীন্দ্রনাথের বিখ্যাত কবিতা ‘এবার ফিরাও মোরে’ এ ব্যবহৃত ‘ হৃৎপিণ্ড’ শব্দটির মাত্রা সম্পর্কে সন্দেহ নিয়ে। আর এ চিঠির উত্তর  দিয়েছিলেন  স্বয়ং রবীন্দ্রনাথ । ১৯৩৯ সালের ২রা আগস্ট (বাংলা ১৩৪৬ সালের ১৭ শ্রাবন) রথীন্দ্রঘটক চৌধুরীও ভর্তি হয়েছিলেন শান্তিনিকেতনে। সেখানে তিনি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সঙ্গ পেয়েছিলেন। ১৯৪১ সালে তিনি শান্তিনিকেতনে পড়া শেষে দেশে ফিরেন। বিদায় বেলা তাকে বিদায় জানিয়েছিলেন  রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং বলেছিলেন ‘আবার এসো’। তবে সে দেখাই ছিল রবীন্দ্রনাথের সাথে তার শেষ দেখা।

সমাজ সেবা ও রাজনীতি

কলকাতা থেকে বাড়ি ফিরে তিনি বসে থাকেননি। তিনি জড়িয়ে পড়েছিলেন সমাজ সেবা ও রাজনীতিতে। তবে ছাত্র জীবন থেকেই তার ছিল রাজনীতিতে হাতেখড়ি। ছাত্র অবস্থায় তিনি জড়িয়ে পড়ছিলেন ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে। সে সময় তিনি জড়িত ছিলেন ‘অনুশীলন পার্টির’ সাথে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর দেশে মহামারী শুরু হয়। চালের দাম বেড়ে মনে ৩০ টাকা হয়ে যায়। চালের দাম কমানোর দাবিতে রথীন্দ্রনাথ বড় ধরনের মিছিল ও মহাসমাবেশের ডাক দেন। তার এ চাপে স্থানীয় প্রশাসন চালের দাম কমিয়ে নির্ধারণ করেন ১৫ টাকা এবং বিক্রয় হয় রথীন্দ্রনাথের স্লিপের মাধ্যমে। ১৯৪৩ সালের দিকে অনেক লোক খাদ্যাভাবে মারা গেলে তার নেতৃত্বে স্থানীয় খাদ্য বিভাগ ও সার্কেল অফিসারের কাছে ‘চরমপত্র’ দেয়া হয়। তাদের চাপের মুখে প্রশাসন সেখানে একটি লঙ্গরখানা খোলেন।

১৯৪৩ সালে সিরঙ্গলে অনুষ্ঠিত ফরিদপুর জেলার ‘আঞ্চলিক পার্টি’ সম্মেলনে রথীন্দ্রকান্ত ঘটক চৌধুরী পার্টির সদস্য পদ লাভ করেন। এ পার্টির মূল লক্ষ্য ছিল গরিব ও মেহনতি মানুষের সেবা করা। ১৯৪৩ সালের দুর্ভিক্ষের পর এলাকায় অনেক রোগ-বালাইয়ের  লক্ষন দেখা দিলে সে  রোগ-বালাই  প্রতিরোধের জন্য রথীন্দ্রনাথের নেতৃত্বে স্থানীয় প্রশাসনের নিকট একটি অস্থায়ী হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা ও প্রয়োজনীয় ঔষধ সরবরাহের জন্য ডেপুটেশন দেয়া হয়। তাদের দাবী মেনে নিয়ে জেলা স্বাস্থ্য অফিসার সেখানে একটি অস্থায়ী হাসপাতাল স্থাপন করেন। এরপর ভারতের ছাত্র ফেডারেশনের সম্পাদক অন্নদাশংকর ভট্টাচার্য সেখানে পাঞ্জাবী ডাক্তারের একটি টিম পাঠান।

রথীন্দ্রকান্ত ঘটক চৌধুরী কৃষকদের খুব ভালবাসতেন। সে সময় তিনি ফরিদপুরের পলদি, পালের চর, কোরফদি কৃষক সম্মেলনে যোগ দেন এবং সেখানে কৃষকদের সাথে বসেই খাওয়া দাওয়া করতেন। ১৯৪৪ সালে মাদারীপুরে অনুষ্ঠিত ফরিদপুর জেলা পার্টি সম্মেলনে তিনি জেলা সংগঠকের পদে অধিষ্ঠিত হন। ১৯৪৩ সাল থেকে ১৯৪৮ সাল পর্যন্ত তিনি কৃষক, কারিগর ও তাতীদের বিভিন্ন বৈঠকে প্রধান বক্তার ভূমিকা পালন করেন। ১৯৪৫ সাল থেকে ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত তিনি তে-ভাগা আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। এ আন্দোলনে রথীন্দ্রসহ এগারো জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। পরবর্তীতে সবাই এ  মামলা থেকে বেকসুর খলাস পান।

১৯৪৭ সালে তুলাসার মাঠে অনুষ্ঠিত তে-ভাগা সম্মেলনে কমরেড শান্তি সেন ও রথীন্দ্রকান্ত ঘটক চৌধুরী বক্তৃতা করেন। সে সময় রথীন্দ্রনাথের আহ্বানো পাঁচ হাজার কৃষক দুহাত তুলে তে-ভাগা আন্দোলনের জন্য শপথ পাঠ করেন। ১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট ভারত দ্বিখণ্ডিত হলে ভারত ও পাকিস্তান নামে দুটি রাষ্টের জন্ম হয়। স্বাধীনতা উদযাপন করার জন্য তুলাসার মাঠে একটি জনসভা আহবান করা হয় এবং সে সভায় তিনি ঘোষণা করেন, “আমরা পাকিস্তানকে ভারতের চেয়ে গণতান্ত্রিক, সুখি ও সুন্দর রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলব’’।

১৯৪৮ সালে রথীন্দ্রকান্ত ঘটক চৌধুরীর বাড়িতে পুলিশি তল্লাসী করা হয়।এ  সময় তিনি কলকাতা চলে যান এবং কিছুদিন পরে দেশে ফিরে আসেন। তবে ১৯৪৮ সালের ২০ নভেম্বর তিনি আবার কলকাতা চলে যান। সেখানে তিনি অবস্থান করেন ১৯৫০ সালের এপ্রিল মাস পর্যন্ত।  কলকাতায় অবস্থানকালে তার সঙ্গে পরিচয় হয় তারাশঙ্কর বন্ধোপাধ্যয়, মানিক বন্ধোপাধ্যয়, ঋতিক খটক, সমরেশ বসু, মৃনাল সেন, সুকান্ত ভট্টাচার্য সহ অনেক নামকরা কবি সাহিত্যিকের সাথে।

১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলনে রথীন্দ্রকান্ত ঘটক চৌধুরী স্থানীয়ভাবে মুখ্য ভূমিকা পালন করেন। তিনি সেখানে লোকদের সংগঠিত করে মিটিং মিছিল করতেন।  ১৯৭১ সালে ২৫শে মার্চের গণহত্যার পর ২৬শে মার্চ পালং থানায় ‘সর্বদলীয় সংগ্রাম পরিষদ” গঠন করা হয় এবং রথীন্দ্রকান্ত ঘটক চৌধুরী সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হন। ১৯৭১ সালের ৩১শে মার্চ পালং তুলাসার সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ে রথীন্দ্রনাথের নেতৃত্বে দশ-বারো হাজার লোক সমগম হয় এবং পাকিস্তান বিরোধী শ্লোগান দেয়। সে সময় এ অঞ্চলে প্রথম জাতীয় পাতাকা উত্তোলন করা হয়। আর এ জাতীয় পাতাকা উত্তোলন করেন সমাবেশের সভাপতি রথীন্দ্রকান্ত ঘটক চৌধুরী।

সাহিত্যিক জীবন

রাজনৈতিক, সামাজিকসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে তার অসামান্য অবদান থাকলেও তার আসল পরিচয় হল তিনি ছিলেন একজন সাহিত্যিক। রথীন্দ্রকান্ত ঘটক চৌধুরীর সাহিত্য চর্চা শুরু করেন স্কুল জীবন থেকেই। বাংলা ১৩৪০ সালের ৩০শে পৌষ মাত্র বারো বছর বয়সে তিনি তার ঢাকার বাড়ির ছাদে  লুকিয়ে ‘প্রার্থনা’ নামে একটি কবিতা লেখেন।  এটি ছিল তার প্রথম সাহিত্য রচনা । কবিটি নিম্নরূপ-

জানিনা আমি               তোমার মহিমা

জানিনা তোমার কোথায় শেষ।

সলিলে, সাগরে           স্থলেই তো তুমি

আবার কোথায় সরগে বাস।

কেন আস তুমি           কেন যাও আর

সর্বদা থাকিবে ভুবন মাঝার,

….কভু না যাইবে আর।

কেন থাক তুমি         গুহার মাঝারে,

হইয়ে পক্ক কেশ

জানিনা তোমার কোথায় শেষ।

১৯৩৯ সালের এপ্রিল মাসে(বাংলা ১৩৪৫ সালের ২৫ থেকে ২৭ চৈত্র) কুমিল্লায় অনুষ্ঠিত ‘কুমিল্লা সাহিত্য সম্মেলন’ এ তিনি যোগদান করেন দক্ষিন বিক্রমপুরের ছাত্র প্রতিনিধি হিসেবে। সেখানে তার সাথে পরিচয় হয় খ্যাতনামা কবি যতীন্দ্রপ্রসাদ ভট্টাচার্য, পড়োখযাট সাহিত্যিক বিভূতিভূষন মুখোপাধ্যায়, সম্মেলনের সভাপতি সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়, কাজি আবদুল ওদুদসহ অনেক নামকরা কবি সাহিত্যিকের সাথে।

১৯৪৮ সালের দিকে রথীদ্রকান্ত কয়েকজন বন্ধু মিলে তার প্রথম কাব্যগ্রন্থের নাম রাখেন ‘পদক্ষেপ’ এবং সেটি তখন কলকাতায় প্রকাশের আয়োজন করা হয়। এর আগে তিনি এ বইয়ের নাম রেখেছিলেন ‘আগুনবোনা’।  কিন্তু দুঃখের বিষয় হল সে বইটি প্রকাশ করা হয় বিশ বছর পর ১৯৬৮ সালে পারিবারিক প্রচেষ্টায়। তবে তখন এ বইয়ের নাম ‘আগুনবোনা’ বা ‘পদক্ষেপ’ কিছুই রাখা হয়নি, বিইটির নাম রাখা হয়েছিল ‘পূর্বাপর’।  এ বইয়ের ১ম সংস্করণ এখন আর পাওয়া যায় না। তবে ১৯৮৮ সালের ফেব্রুয়ারী মাসে ‘মুক্তাধারা’ থেকে এটির দ্বিতীয় সংস্করণ বের হয়। সপ্তম শ্রেণী থেকে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত অসংখ্য কবিতা লিখলেও ‘ পূর্বাপর’ ই হল একমাত্র কাব্যগ্রন্থ।

রথীন্দ্রকান্ত ঘটক চৌধুরী এক সময় ‘অগ্রনী’, ‘অরণী’ ইত্যাদি পত্রিকায় চাকরী ও সম্পাদনার কাজে সহায়তা করতেন । তিনি  ১৯৪৯ সালে ‘অভিধার’ নামে একটি মাসিক পত্রিকার ‘শারদীয়’ সংখ্যার সম্পাদনা করেন। মানিক বন্ধোপাধ্যায়ের ‘নেতা’ গল্পটি রথীন্দ্রকান্তের সম্পাদিত ‘অভিধারা’ পত্রিকার বিশেষ সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছিল। ১৯৪৫ সালে কলকাতায় অনুষ্ঠিত ফ্যাসীবিরোধী লেখক ও শিল্পী সংঘের অধিবেশনে তিনি ফরিদপুরের প্রতিনিধি হিসেবে যোগদান করেন। সেখানে তার সাথে পরিচয় হয়েছিল মানিক বন্দোপাধ্যায়ের সাথে। পত্রিকায় প্রকাশিত তার প্রথম দুটি রচনা হল ‘বালুচরা সিদ্ধেশ্বরী কালীবারি’(প্রবন্ধ), ‘বাসনা’(কবিতা)। তার এ প্রবন্ধটি প্রকাশিত হয় ১৯৩৬ সালের ফেব্রুয়ারী-মার্চের ‘জ্ঞানলোক’ পত্রিকায়। তিনি মৃত্যুর আগে ‘সোনার বাংলা গান বিতর্ক’ নামে একটি রচনা লিখেছিলেন যা প্রকাশিত হয়েছিলো তার মৃত্যুর পর ১৯৮৮ সালে সংবাদ পত্রিকার সাহিত্য পাতায়। তিনি ছাত্র অবস্থায় রসবল্লভ ছন্দনামে ‘ভল্টো হাওয়া’ নামক একটি প্রহসন রচনা করেছিলেন। সেটি রচনা ও অভিনয় করেছিলেন শান্তিনিকেতনে।

চাকরী জীবন

রথীন্দ্রকান্ত চৌধুরীর চাকরী জীবন শুরু হয় ১৯৪৫ সালে চকন্দী হাই স্কুলে শিক্ষক হিসেবে। সেখানে তিনি চাকরি করেন ১৯৪৮ সাল পর্যন্ত। এরপর তিনি ্যোগদান করেন কলকাতা থেকে প্রকাশিত স্বর্ণকমল ভট্টাচার্যের অগ্রণী পত্রিকায়। অগ্রণী পত্রিকার পর যোগদান করেন অরণী পত্রিকায়। ১৯৪৮ সাল থেকে ১৯৫০ সাল পর্যন্ত অবস্থান করেন কলকাতায়। ১৯৫০ সালে বালুচরে ফিরে এসে যোগ দেন পালং হাই স্কুলের অস্থায়ী শিক্ষক হিসেবে। পরবর্তীতে তিনি সেখানে স্থায়ীভাবে যোগ দেন।

১৯৫৪ সালে পালং হাই স্কুলন ছেড়ে যোগ দেন তুলাসার গুরু দাশ উচ্চ বিদ্যালয়ে। সেখানে তিনি চাকরি করেন ১৯৬০ সাল পর্যন্ত।

ঢাকা বেতার কেন্দ্রের লোকগীতি অনষ্ঠানের প্রবর্তন

রথীন্দ্রকান্তঘটক চৌধুরী ছিলে ঢাকা বেতার কেন্দ্রের লোকগীতি উৎসব’ অনুষ্ঠানের প্রস্তাবক। ১৯৫৬ সালে তিনি বিশিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব সিরাজুদ্দিন সরদার কে নিয়ে ঢাকা বেতার কেন্দ্রে যান। সেখানে তার বন্ধু ঢাকা বেতার কেন্দ্রের সহকারী পরিচালক শামসুল হুদা চৌধুরীকে গ্রামের আনাচে-কানাচের প্রতিভাবান শিল্পীদের নিয়ে লোকগীতি উৎসব চালুর প্রস্তাব দেন। তার প্রস্তাব ও উদ্যোগের উপর ভিত্তি করে ১৯৫৭ সালের ২১শে মার্চ রাত ৯টা থেকে ঢাকা বেতার কেন্দ্রে ১ম লোকগীতি অনুষ্ঠান শুরু হয়। শামসুলহক চৌধুরীর পরিকল্পনায় তিনি তরজা বিচারের ভূমিকা পালন করেন। সে অনুষ্ঠানের প্রধান প্রধান শিল্পিদের মধ্যে ছিলেন মুর্শিদী গায়ক আবদুল হালিম বয়াতি, হাজেরা বিবি, পুথি গায়ক শাকিম আলী বয়াতি সহ অনেক নামকরা কবি ও গায়ক। এ লোকগীতি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে গ্রামের আনাচে-কানাচের শিল্পীরা এক সময় বড় শিল্পী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। আর এরপর থেকেই গায়ক গায়িকাদের রেডিওতে গান গাওয়ার প্রচলন শুরু হয়।

শরীয়তপুর জেলা প্রতিষ্ঠা ও কিছু উদ্যোগ

শরীয়তপুর মহাকুমা প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৭৭ সালের ১লা নভেম্বর। রথীন্দ্রকান্তঘটক চৌধুরী মহকুমা স্থাপনে মুখ্য ভূমিকা পালন করেন। মহকুমা হিসেবে সদরের স্থান নির্বাচনও ছিল তার অবদান। ১৯৭৮ সালে তার উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত হয় শরীয়তপুর শিল্পকলা একাডেমী। তিনি প্রতিষ্ঠাকালে ছিলেন এর সম্পাদক এবং মৃত্যুর আগ পর্যন্ত ছিলেন সহসভাপতি। শরীয়তপুর কলেজ ও শরীয়তপুর বালিকা বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা ও সরকারি করনে তার অবদান ছিল। ১৯৮২ সালের ১৬ জুলাই রথীন্দ্রকান্তের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত হয় শরীয়তপুর পাবলিক লাইব্রেরী। ১৯৮২ সালের ২৩শে জানুয়ারী পাবলিক লাইব্রেরী প্রতিষ্ঠা কারার জন্য রথীন্দ্রকান্তঘটক চৌধুরীকে আহবায়ক করে একটি কমিটি গঠন করা হয়। প্রতিষ্ঠাকেলে তিনি ছিলেন এর সম্পাদক এবং মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি এ পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন।

শরীয়তপুরকে মহকুমা থেকে জেলা প্রতিষ্ঠায় তিনি মুখ্য ভূমিকা পালন করেন। ১৯৮৩ সালে শরীয়তপুর মহকুমা বাতিল করে উপজেল গঠন করলে জেলা বাস্তবায়ন কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেয়া হয়। শরীয়তপুর পাবলিক লাইব্রেরীতে রথীন্দ্রনাথের সভাপতিত্বে সভা অনুষ্ঠিত হয় এবং রথীন্দ্রকান্ত ঘটক চৌধুরীকে সভাপতি করে ‘শরীয়তপুর জেলা বাস্তবায়ন কমিটি’ গঠন করা হয়। রথীন্দ্রনাথের নেতৃত্বে শরীয়তপুরের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সভা-সমাবেশ করেন। অবশেষে তাদের সফল প্রচেষ্টায় ১৯৮৪ সালের ১লা মার্চ বাংলাদেশ সরকার শরীয়তপুরকে জেলা হিসেবে উন্নীত করে।

১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের পর অনেকে দেশ ছেড়ে ভারত চলে যায়। ছাত্র সংকটের কারনে ১৯৫৬ সালে পালং ও তুলাসার স্কুল দুটিকে একত্রিত করা হয়। তিনি তখন ছিলেন তুলাসার গুরুদাশ হাই স্কুলের শিক্ষক। ১৯৭১ সালে দেশ স্বাধীনের পর রথীন্দ্রনাথের উদ্যোগে পালং উচ্চ বিদ্যালয়কে আবার তার পূর্বের জায়গায় ফিরিয়ে নেয়া হয় এবং এটিকে একটি পূর্ণাঙ্গ বিদ্যালয় হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা হয়।

মৃত্যু

অবশেষে ১৯৮৪ সালের ১৫ই জুন  তিনি দুনিয়া থেকে চিরবিদায় নেন। মৃত্যুর সময় তার বয়স হয়েছিল ৬৭ বছর। মৃত্যুকালে তিনি রেখে গেছেন স্ত্রী কন্ঠশিল্পী রানীঘটক চৌধুরী ও নয় পুত্র ও কন্যা(শিখা, শীলা, অনীক, হাসি,খুশী, পূর্ণিমা, অভীক, অমিত ও মালা)।মৃত্যুর পর তার স্মৃতিস্বরূপ ১৯৮৪ সালের ১২ জুলাই প্রতিষ্ঠা করা হয় ‘রথীন্দ্র সাহিত্য পরিষদ’। এ পরিষদের সভাপতি ছিলেন সাহিত্যিক আবু ইসাহাক।

লেখক

এম এম রেদোয়ান আহমেদ মাসুদ রানা

ব্রাক বিশ্ববিদ্যালয়।

রেদোয়ান মাসুদ এর ৩০ টি গুরুত্বপূর্ণ বাণী

“ভবিষ্যতে যার কাছ থেকে তুমি সবচেয়ে বড় কষ্টটি পাবে,
আজ সে তোমার সবচেয়ে কাছের কোন একজন”।
___ রেদোয়ান মাসুদ
.
“কাউকে দুঃখ দিয়ে বেঁচে থাকার চেয়ে দুঃখ নিয়ে বেঁচে থাকা অনেক ভাল। কারণ নিজের কষ্টের জন্য কারো কাছে জবাবদিহি করতে হয় না। কিন্তু অন্যকে কষ্ট দিলে জীবন ভরে তার অভিশাপ মাথায় নিয়ে চলতে হয়”।
___ রেদোয়ান মাসুদ
.
“তার জন্য কাঁদ যে তোমার চোখের জল দেখে সেও কেঁদে ফেলে, কিন্তু এমন কারো জন্য কেদোনা যে তোমার চোখের জল দেখে উপহাস করে”।
___ রেদোয়ান মাসুদ
.
. “যে থাকবেনা তাকে যত ভাবেই আটকে রাখতে চাওনা কেন কোন লাভ হবে না, কারন সে ইতিমধ্যে তোমার প্রতি তার সকল মায়া ত্যাগ করে ফেলেছে। হয়তোবা তোমার চোখের দিকে তাকিয়ে মাঝে মাঝে ভালবাসার অভিনয় করবে, কিন্তু তুমি তাকে এতই ভালবেসে ফেলেছ যে তার সামান্য একটু অভিনয়েই তাকে ফিরে পাওয়ার স্বপ্নে অস্থির হয়ে গেছ। আসলে এ স্বপ্নই তোমাকে আরো বেশি কষ্ট দিবে, যা তুমি কল্পনাও করতে পারবে না”।
___ রেদোয়ান মাসুদ
.
“তুমি তার জন্য কাঁদ
কারন তুমি তাকে এখনও ভালোবাস,
তোমার কান্না দেখে সে হাসে
কারন সে কখনোই তোমাকে ভালোবাসোনি।
শুধু সময়ের প্রয়োজনে কাছে এসেছিলে
আবার সময়ের পরিবর্তনে চলে গেছ,
মাঝখানে যা কিছু হয়েছিল সব আবেগ
আর শেষে যা হয়েছে সব প্রতারণা”।
___ রেদোয়ান মাসুদ
.
“স্বপ্ন তাকে নিয়েই দেখ যে শুধু স্বপ্ন দেখায় না বাস্তবায়নও করে, কিন্তু এমন কাউকে নিয়ে স্বপ্ন দেখ না যে স্বপ্ন দেখিয়ে নিজেই হারিয়ে যায়”।
___ রেদোয়ান মাসুদ
.
“কিছু মানুষের কষ্ট চোখ দিয়ে ঝরে
কিছু মানুষের কষ্ট মেজাজ দিয়ে প্রকাশ করে
কিছু মানুষের কষ্ট হৃদয়ের মাঝে শুকিয়ে মরে
তবে কষ্টকে যারা প্রকাশ করতে না পারে,
তারাই জীবনে সবচেয়ে বেশি কষ্ট করে।
___ রেদোয়ান মাসুদ
.
“তোমাকে ছাড়া থাকার কোন সাধ্য আমার নেই
কারণ তোমাকে আমি আমার জীবনের চেয়েও বেশি ভালোবাসি।
তোমাকে ধরে রাখার কোন উপায় আমার কাছে জানা নেই
কারণ বাস্তবতার কাছে আমি বড় অসহায়”।
___ রেদোয়ান মাসুদ
.
“যে ভালবাসার মাঝে না পাওয়ার ভয় থাকে
আর সেই কথা মনে করে দু’জনেই কাদে,
সে ভালবাসা হচ্ছে প্রকৃত ভালবাসা”।
___রেদোয়ান মাসুদ
.
“জীবন চলার পথে বাঁধা আসতেই পারে
তাই বলে থেমে যাওয়ার কোন অবকাশ নেই,
যেখানে বাঁধা আসবে সেখান থেকেই আবার
শুরু করতে হবে”।
____ রেদোয়ান মাসুদ
.
“কাউকে অপমান করা খুবই সহজ।
আরও সহজ হল প্রকাশ্যে অপদস্থ করে সম্পর্ক ভেঙ্গে দেয়া ।
কিন্তু সবচেয়ে কঠিন কাজ হল নিজের ভুল স্বীকার করে
আবার সম্পর্কটাকে স্বাভাবিক পর্যায়ে নিয়ে আসা”।
___রেদোয়ান মাসুদ
.
“অপমানিত জীবন অভিশপ্ত জীবনের চেয়ে ভয়াবহ,
কারন অভিশাপ নিজের কর্মের ফল,
আর অপমান সবসময় নিজের কর্মের জন্য হতে হয় না,
যা শুধু গোপনে সয়ে যেতে হয় প্রতিবাদ করা যায় না”।
___ রেদোয়ান মাসুদ
.
“তার জন্য কাঁদ যে তোমার চোখের জল দেখে সেও কেঁদে ফেলে, কিন্তু এমন কারো জন্য কেদোনা যে তোমার চোখের জল দেখে উপহাস করে”।
___ রেদোয়ান মাসুদ
.
“প্রেম হলো মরণব্যাধির চেয়েও ভয়ানক রোগ। কারণ মরণব্যাধি মানুষকে একবারে শেষ করে দেয়। আর প্রেম রোগ অনেককে সারা জীবন তিলে তিলে ক্ষয় করে মারে”।
___ রেদোয়ান মাসুদ
.
“যে হাত দিয়ে কাউকে তুমি ফিরিয়ে দিলে, কিন্তু মনে রাখতে হবে সে হাত যেন আবার কোন দিন কারো কাছে পাততে না হয়”।
___ রেদোয়ান মাসুদ
.
“কেউ তোমাকে অনেক ভালবাসবে, সহজেই অনেক আপন করে নিবে। আর তাতে তুমি আনন্দে ভেসে যেও না। এ আনন্দ তোমার জন্য নাও সইতে পারে।অপেক্ষা কর সময়ের জন্য।সময়ই বলে দিবে এ ভালবাসা তোমার জন্য দুঃখের না সুখের”।
___ রেদোয়ান মাসুদ
.
“যে ভালবাসার মাঝে অবিশ্বাস জন্মেছে,
সে ভালবাসা নিয়ে স্বপ্ন না দেখাটাই ভাল।
কারন ভালবাসা অফুরন্ত,
আর অবিশ্বাস চিরস্থায়ী।
যা অফুরন্ত ভালবাসাকে
কোন দিন না কোন দিন ঘুন ধরাবেই”।
__রেদোয়ান মাসুদ
.
“আকাশে অনেক তাঁরা থাকলেও চাঁদ কিন্তু একটাই আছে,
ভালবাসার মানুষের অভাব না হলেও মন কিন্তু একটাই থাকে।
তাই যাকেই মন দাওনা কেন বুঝে শুনেই দিও,
কারন মন বিনিময়ের পর আবার তুমি ফিরিয়ে আনলেও
যাকে মন দিয়েছ সে কিন্তু তার মন নাও ফিরিয়ে নিতে পারে”।
___ রেদোয়ান মাসুদ
.
“মেয়েদের চেয়ে বোকা জাতি বোধহয় পৃথিবীতে দ্বিতীয়টি আর নেই, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায় তারা অযোগ্য ও অপদার্থ ছেলেদের জন্য নিজদেরকে উজাড় করে দেয়, আবার যোগ্য ও ভাল ছেলেদের কে দূরে ঠেলে দেয়। তাই দুই দিক থেকেই তারা বোকামির পরিচয় দেয়”।
___ রেদোয়ান মাসুদ
.
“কাউকে কখনও বেশি আপন করে নিও না,
তাহলে তার কাছে তোমার নিজের অস্তিত্বই হুমকির মুখে পড়বে।”
___রেদোয়ান মাসুদ
.
“ভুল থেকেই মানুষ শিখে, কিন্তু সে ভুলটি যেন না হয় জীবনের শেষ ভুল। কারণ এমনও হতে পারে আপনি যে সুযোগটি হাতছাড়া করে ফেলেছেন,সে সুযোগটিই ছিল আপনার জীবনের শেষ সুযোগ”।
____রেদোয়ান মাসুদ
.
“কষ্ট কখনও কাউকে কষ্ট দেয় না সুখ ই মানুষকে কষ্ট দেয়। তাই সুখের পিছনে ঘুরে সময় নষ্ট করা মানে দুঃখকে আমন্ত্রণ জানানো ছাড়া আর কিছু নয়”।
___ রেদোয়ান মাসুদ
.
“পৃথিবীতে কেউ কারো নয়
শুধু সুখে থাকার আশায়
কাছে টানার ব্যর্থ প্রত্যয়
আর দূরে চলে যাওয়ার
এক বাস্তব অভিনয়”।
___ রেদোয়ান মাসুদ
.
“সুখে থাকাই জীবনের চরম সার্থকতা নয় বরং কাউকে সুখে রাখতে পারাটাই হলো জীবনের সবচেয়ে বড় সার্থকতা”।
___ রেদোয়ান মাসুদ
.
“কারো জন্য কিছু থেমে না থাকলেও মনে কিছু আক্ষেপ থেকে যায়,
যা কোন দিন ও শেষ হয় না, শুধু জীবন ভরে কাদায়”।
____ রেদোয়ান মাসুদ
.
“আবেগ আর বিবেক দুইটাই ভিন্ন জিনিস। আবেগ বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ক্ষতিকর আর বিবেক মানুষকে ভাল মন্দ বাছাই করতে শিখায়। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে আমরা সবাই আবেগের কাছে বিবেক হারাই, কিন্তু বিবেকের কাছে আবেগ হারাই না”
___রেদোয়ান মাসুদ
.
“কাগজের নৌকা দিয়ে কখনও নদী পাড় হওয়া যায় না, ঠিক তেমনিভাবে অবিশ্বাস আর সন্দেহ নিয়ে কখনও ভালোবাসা হয় না”।
____ রেদোয়ান মাসুদ
.
“কষ্ট হলো মানুষের জীবনেরই একটা অংশ যা চোখের জল দিয়ে বের হলেও হৃদয়ের মাঝে আজীবন গাঁথা থাকে, আর সুখ যদিও মানুষের জীবনের একটা অংশ তবে তা হৃদয়ের মাঝে গাঁথা থাকে না, হাসির মাধ্যমে বাতাসের সাথে মিশে যায়”।
___ রেদোয়ান মাসুদ
.
“তুমিকাউকে সহজেই বোকা বানিয়ে দিতে পারবে অথবা কারো সরলতার সুযোগ নিয়ে ঠকিয়ে দিতে
পারবে। কিন্তু নিজের বিবেকের কাছে একবার প্রশ্ন করে দেখ নৈতিকতার দিক দিয়ে কি তুমি
নিজেই হেরে গেলে না?”
___ রেদোয়ান মাসুদ
.
“ভাগ্যহচ্ছে এমন একটা চিরন্তন সত্য যা ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হয়। যেটা যার কপালে লেখা নেই
সেটার জন্য হাজার চেষ্টা করলেও কোন লাভ নেই, আবার অনেকে আছেন যারা যেটা কোনদিন কল্পনাও
করেননি সেটাও পেয়ে যাচ্ছেন”।
____ রেদোয়ান মাসুদ

নিরবেই কাঁদব ___রেদোয়ান মাসুদ

আমি নিরবেই কাঁদব
নিরবেই হাসব,
কখনও বলব না আর
আমার কান্না পাচ্ছে দেখে যাও একবার ।
.
আমি নিরবেই জ্বলব
নিরবেই মরব
কখন বলব না আর
মরার বেলা এই তৃষ্ণার্ত ঠোটে একফোটা জল দাও একবার।
.
আমি নিরবেই সইব
নিরবেই দেখব
কখনও বলব না আর
পোড়া হৃদয়খানি দেখে যাও একবার ।
.
আমি নিরবেই ভালবাসব
নিরবেই হৃদয়ে রাখব
কখনও বলব না আর
কত ভালভালবাসি তোমায় চেয়ে দেখ একবার ।
.
আমি নিরবেই ভাবব
নিরবেই কাছে রাখব
কখনও বলব না আর
একবার কাছে এসে দেখে যাও মুখটি আমার ।
.
আমি নিরবেই অদৃশ্য হব
নিরবেই চলে যাব
কখনও বলব না আর
চীর তরে চলে যাচ্ছি বিদায় দাও এবার ।

ভাষা সৈনিক

ভাষা  সৈনিকের তালিকাঃ

  • অধ্যাপক অজিত কুমার গুহ
  • অধ্যাপক আব্দুল গফুর
  • অধ্যাপক আবুল কাসেম
  • অধ্যাপক মুস্তফা নূরুল ইসলাম
  • অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম
  • অধ্যাপক শাহেদ আলী
  • অধ্যাপক সাফিয়া খাতুন
  • অধ্যাপক সুফিয়া আহমেদ
  • অধ্যাপক হালিমা খাতুন
  • অলি আহাদ
  • আতাউর রহমান খান
  • আনোয়ারা খাতুন
  • আনোয়ারুল হক খান
  • আনসার আলী
  • আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
  • আব্দুর রশীদ খান তর্কবাগীশ
  • আব্দুর রহমান চৌধুরী
  • আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী
  • আবদুল মতিন
  • আব্দুল মতিন খান চৌধুরী
  • আব্দুল মমিন
  • আবদুল লতিফ
  • আবদুল হক
  • আবদুস সামাদ আজাদ
  • আবুল কালাম শামসুদ্দিন
  • আবুল কাশেম ফজলুল হক
  • আবুল মনসুর আহমদ
  • আবুল হাশিম
  • আমানুজ্জামান থান (বেবী)
  • আমিনুল ইসলাম
  • আমিনুল হক
  • আমেনা বেগম
  • আলী আহম্মদ খান
  • আলতাফ মাহমুদ
  • আহমদ রফিক
  • ইমাদুল্লাহ
  • ইমদাদ হোসেন
  • উষা বেপারী
  • এম আর আখতার মুকুল
  • এস এ বারি এ টি
  • এস এম নুরুল আলম
  • এস এম নুরুল হক ভূইয়া
  • কাজী খালেদা খাতুন
  • কাজী গোলাম মাহবুব
  • কামরুজ্জামান
  • কামরুদ্দিন আহমেদ শহিদ
  • কামরুদ্দীন আহমদ
  • কে জি মোস্তফা
  • কোরবান আলী
  • খালেক নেওয়াজ খান
  • খন্দকার মোশতাক আহমেদ
  • খন্দকার মোহাম্মদ ইলিয়াস
  • গাজীউল হক
  • গোলাম আজম
  • গুলে ফেরদৌস
  • জিল্লুর রহমান আলী
  • জুলমত আলী খান
  • জহির রায়হান
  • ড. আলাউদ্দিন আল আজাদ
  • ড. কাজী মোতাহার হোসেন
  • ড. মোজাফ্‌ফর আহমেদ চৌধুরী
  • ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
  • ডা. গোলাম মাওলা
  • ডা. ফরিদুল হুদা
  • ডা. বদরুল আলম
  • ডা. মোহাম্মদ আলী আসগর
  • ডা. সাঈদ হায়দার
  • তাজউদ্দিন আহমদ
  • তোফাজ্জেল হোসেন মানিক মিয়া
  • ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত
  • নঈম বিশ্বাস আলী
  • নিজামুল হক
  • নেয়ামাল বাসির
  • ফকির শাহাবুদ্দিন
  • বাহাউদ্দিন চৌধুরী
  • বোরহান উদ্দিন খান জাহাঙ্গীর
  • বদরুদ্দিন ওমর
  • মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী
  • মাওলানা মোহাম্মদ আকরাম খাঁ
  • মীর ফজলুল হক
  • মীর্জা গোলাম হাফিজ
  • মোঃ পিয়ারু সরদার
  • মোঃ শামসুল হক
  • মোজাফ্‌ফর আহমেদ
  • মোমিনুল হক
  • মোশারফ হোসেন চৌধুরী
  • মোসলেমা খাতুন
  • মোহাম্মদ আলী
  • মোহাম্মদ তোয়াহা
  • মোহাম্মদ মোকাম্মেল হক
  • মোহাম্মদ সুলতান
  • মৌলভী ফরিদ আহমদ
  • মুনীর চৌধুরী
  • মনোরঞ্জন ধর
  • মুর্তজা বশীর
  • মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান শেলী
  • মহিউদ্দিন আহমদ
  • মুহম্মদ তকীউল্লাহ
  • রওশন আরা বাচ্চু
  • রওশন আহমেদ দোলন
  • রওশন জাহান হোসেন
  • শামসুল হক
  • শামসুল হক
  • শেখ মুজিবুর রহমান
  • শহীদুল্লাহ কায়সার
  • সাইয়িদ আতীকুল্লাহ
  • সাদেক খান
  • সৈয়দ নজরুল ইসলাম
  • সুফিয়া খান
  • হাসান হাফিজুর রহমান

জেলা ভিত্তিক ভাষা সৈনিকের তালিকা

         নারায়নগঞ্জ

মুস্তাফা মনোয়ার

মুস্তাফা সারোয়ার

সিরাজুল হক
    মানিকগঞ্জ

প্রমথ নন্দী

মোঃ রেহাজ উদ্দিন

মোঃ ওয়াজউদ্দিন মাষ্টার

সাহারা খাতুন

খন্দকার দেলোয়ার হোসেন
   মুন্সিগঞ্জ
ডা. এম এ কাদের

মোঃ আব্দুস বাসেত
  নরসিংদী
এস এম চান মিয়া

আবুল হাশিম মিয়া

রমিজউদ্দিন ভূইয়া

আব্দুল করিম মিয়া
   টাঙ্গাইল
বদিউজ্জামান খান

সৈয়দ নুরুল হুদা

আলী আকবর খান খোকা

আলতাফ হোসেন

রোকেয়া রহমান
   ফরিদপুর
ইমাম উদ্দিন আহমেদ

মুনাওয়ার হোসেন

এম এ লতিফ

লিয়াকত হোসেন

মহিউদ্দিন

ননী গোপাল সাহা

শেখ মহিউদ্দিন

এস এম নুরুন্নবী
  শরীয়তপুর
মোঃ নুরুল ইসলাম

রবীন্দ্রনাথ ঘটক
  চট্টগ্রাম
মাহবুবুল আলম চৌধুরী

আব্দুল্লাহ আল হারুন

চৌধুরী হারুন অর রশিদ

এম এ আজিজ

জহুর আহমদ চৌধুরী

রফিকউদ্দিন আহমদ সিদ্দিকী

আজিজুর রহমান

কৃষ্ণ গোপাল সেন

কলিম শরাফী
  ফেনী
খাজা আহমদ

এম এম হুদা

জুলফিকার হায়দার চৌধুরী

লুৎফর রহমান (ভানু)
  কুমিল্লা
সালাউদ্দিন
  নোয়াখালী
রইস উদ্দিন

কামাল উদ্দিন

তারকবন্ধুনাথ

আহসান উল্লাহ

সহিদ উদ্দিন ইসকান্দার
  ব্রাহ্মনবাড়িয়া
মোহাম্মদ মুসা

লুৎফর রহমান

মালেক মিয়া
  খুলনা
শেখ রাজ্জাক আলী
  যশোর
হামিদা রহমান

আফসার আহমেদ সিদ্দিকী

আলমগীর সিদ্দিকী

মশিউর রহমান

মোঃ একরামুল হক

ঈমান আলী মাষ্টার

এম এইচ জিন্নাহ
  ঝিনাইদহ
এম এনামুল হক

জাহিদ হোসেন

মনোয়ারা বেগম

গুলজার হোসেন

আমির হোসেন মালিতা
  কুষ্টিয়া
অ্যাডভোকেট মোঃ মহসিন

সৈয়দ আলতাফ হোসেন
  চূয়াডাঙ্গা
মোঃ শাহজাহান

আবুল হাসেম

আজিজুল হক

ডা. আসহাবুল হক

আছগর আলী মোল্লা

আবু সালেহ জোয়ার্দার
  মাদারীপুর
সরদার আবুল ফজল

মোঃ মতিয়ার রহমান

মিয়া আব্দুল ওহাব
  গোপালগঞ্জ
আব্দুস সাত্তার মোল্লা

এস এম ফজলুর রহমান

পরেশ চন্দ্র বিশ্বাস

আবুল হোসেন ভূইয়া
  সিলেট
নাসির আহমেদ চৌধুরী

সিরাজ উদ্দিন আহমেদ

দেওয়ান মোহাম্মদ আজরফ

দেওয়ান ফরিদ গাজী

হাজেরা মাহমুদ

পীর হাবিবুর রহমান

মাহমুদ আলী

মতিন উদ্দিন আহমদ

তসদ্দুক আহমেদ

সাদত খান

সৈয়দ মোতাহীর আলী

মুহম্মদ নূরুল হক

বাহাউদ্দিন আহমদ

মসউদ খান

সাফাত আহমেদ চৌধুরী

আবু সায়ীদ মাহমুদ

আসদ্দর আলী

মোহাম্মদ মুসলিম চৌধুরী
  হবিগঞ্জ
আফসার আহমেদ

মোস-ফা শহীদ

মোহাম্মদ মাহবুবুল বারী

চৌধুরী আব্দুল হাই

মোঃ ফজলুল হক

সৈয়দ আফরোজ বখত ॥
  মাগুরা
আবদুর রশীদ

আবদুস সালাম

আলী আহমেদ

এ কে এম হামিদুজ্জামান

মির্জা শওকত হোসেন

নাসিরুল ইসলাম
  ময়মনসিংহ
রফিক উদ্দিন ভূইয়া হোসেন

শামছুল হক

মোস-ফা এম এ মতিন

মহাদেব স্যানাল

হাতেম আলী তালুকদার
  শেরপুর
ডা. সাদেকুর রহমান

অমূল্য রতন সিংহ

রবি নিয়োগী

নিজাম উদ্দিন

আহছান উল্লাহ

শামছুল হুদা
  জামালপুর
সৈয়দ আব্দুস সাত্তার

সৈয়দ আব্দুস সোবাহান ॥
  নেত্রকোনা
ওয়াজেদ আলী

আছিম উদ্দিন আহমেদ

ফজলুর রহমান খান

এ কে এম ফজলুল কাদের

আব্দুল আলী ।
  কিশোরগঞ্জ
আবু তাহের খান পাঠান

হেদায়েত হোসেন

আশরাফ উদ্দিন মাষ্টার

মিসিরউদ্দিন আহমদ

জগদীশ পন্ডিত
  সৈয়দপুর
মতিউর রহমান
  রংপুর
আফতাবুর নাহার

মনিকৃষ্ণ সেন

মোঃ নুরুল ইসলাম

শংকর বসু

নাজাতুল আলম জেবিন

মকসুদ হোসেন

হাবিবুর রহমান চৌধুরী

  দিনাজপুর
হাজী মোহাম্মদ দানেশ
  রাজশাহী
এম আতাউর রহমান

অধ্যাপক মোঃ একরামুল হক

আবুল কাশেম চৌধুরী

কাজী আব্দুল মান্নান

ড. এস এম আব্দুল গাফফার

কসিমুদ্দিন আহমেদ

মহসীন প্রামানিক

সাঈদ উদ্দিন আহমেদ

আব্দুস সাত্তার

মমতাজ উদ্দিন আহমদ

বিচারপতি আনসার আলী

মোহসেনা বেগম

মনোয়ারা বেগম

ক্যাপ্টেন শামসুল হক

মাদার বখস

হাফিজা বেগম টুকু

ডা. আজিজুল বারী চৌধুরী

এডভোকেট আবুল কালাম চৌধুরী

   পাবনা
শওকতজান চৌধুরী

কমরেড প্রসাদ রায়

সেলিনা বানু

রণেশ মৈত্র

আমজাদ হোসেন

ফকরুল ইসলাম ।
 সিরাজগঞ্জ
সাইফুল ইসলাম

আবুল হোসেন

সাহাবুদ্দিন সরকার

আবুল ফাত্তা নূরে এলাহী

মেহের নিগার নূরে এলাহী

মোতাহার হোসেন তালুকদার

জিতেন্দ্রনাথ নিয়োগী
বগুড়া
মুখলেছুর রহমান

জালাল উদ্দিন আকবর

নুরুল হোসেন মোল্লা

দুর্গাপদ মুখার্জী

মোশারফ হোসেন মন্ডল

গোলাম মহিউদ্দিন

এইচ এম মতিয়ার রহমান
বরিশাল
কাজী বাহাউদ্দিন আহমদ

সামছুল হক চৌধুরী

আবুল হাসেম

এ কে এম আমির উদ্দিন

মিসেস হামিদউদ্দিন

মোশারফ হোসেন মোচন

মিহির লাল দত্ত

  পটুয়াখালী
সৈয়দ আশরাফ হোসেন

খন্দকার খালেক

অধ্যাপক ডাঃ মোঃ মিজানুর রাহমান

অধ্যাপক ডাঃ মোঃ মিজানুর রাহমান

এমবিবিএস, এফসিপিএস

শিশু স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞ

অধ্যাপক এবং প্রধান, শিশু নিউরোলজী

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, শাহাবাগ ঢাকা

চেম্বার-১

ফোন

সেন্ট্রাল হাসপাতাল লিঃ
রুম নং ২০৬, বাড়ি নং-২ ,রোড নং-৫
গ্রীন রোড, ধানমন্ডি, ঢাকা

১২০৫,বাংলাদেশ

সাক্ষাতের সময়ঃ বিকাল ৪.০০- রাত ১০.০০

রোগী দেখানোর জন্য একদিন পূর্বে সিরিয়ালের জন্য যোগাযোগঃ

বিকাল ৪.০০- রাত ৪.৩০

মোবাইল- ০১৭৩৩৫৭৬৬৬০

চেম্বার-২

ফোন

ঢাকা হাসপাতাল

বাড়ী নং-১৭, সড়ক নং-৮

ধানমন্ডি আবাসিক এলাকা,ঢাকা-১২০৫

রোগীর নাম/সিরিয়ালের জন্য যোগাযোগঃ

মোবাইলঃ ০১৭১৪-০৪৭৬৮৬,

ফোনঃ ৭৩২০৭০৯, ৭৩১০৭৫০

শুক্রবার এবং সরকারী ছুটির দিন  বন্ধ