হতাশা আত্মহত্যা কেন? পরিত্রাণের উপায়

মাহামুদুল হাসান: আশা, নিরাশা; স্বপ্ন দেখা, স্বপ্ন ভাঙা সময়ের আবর্তনে ফিরে ফিরে আসা সফলতা আর ব্যার্থতা মিলেই তো জীবন। কি আছে, কি নেই সে হিসেব কষেই যদি সময় পার হয়ে যায় তবে বেলা শেষে অলসতায় সঙ্গ দিবে। মন খারাপের সময়ে হাতাশা জড়িয়ে ধরবে। আর সেই হতাশাকে পরিস্থিতির দোষ দিয়ে নিজের ভুল কে ভুলে গেলেই যে সকল মুক্তি এ কথা ভাববার মতো ফুসরতও হয়তো মিলবে না। তাই অলসতা কে পুজি করে ব্যার্থতার সাগরে ডুব না দিয়ে আশা ধরে রাখুন, নিজের চেষ্টায়  বা অন্যের সাহায্য নিয়ে এই হতাশা থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করুন, তা না হলে আপনি বিষণ্ণতায় ভুগবেন তো ভুগবেনই!

হতাশা কি?

প্রথমত , হতাশা একটি নেতিবাচক শব্দ। সাধারন নেতিবাচক চিন্তা-চেতনা দীর্ঘদিন পোষণ করা থেকেই হতাশার তৈরি হতে পারে। নিজের সম্পর্কে, পরিবারের সম্পর্কে ও আশে পাশের মানুষ সম্পর্কে নেতিবাচক ভাবনা থেকেই হতাশার জন্ম।

হতাশা এক প্রকারের মানসিক অবস্থা, পাশাপাশি হতাশা কে স্বাভাবিকতাও বলা যায় এক দিক দিয়ে। কোন ব্যাক্তি যখন তার নিজের জীবনে কোন আশা দেখতে পায় না, সকল আগ্রহ হারিয়ে ফেলে, নেতিবাচক সকল ভাবনাগুলো মনের মধ্যে জেঁকে বসে আর এমন অবস্থা যদি ১৫ দিনের বেশি সময় ধরে  থাকে তখন তাই হতাশা।

কি কি কারণে হতাশার জন্ম হতে পারে?

পরিবারে কলহ, মা বাবার মধ্যকার খারাপ সম্পর্ক, পরীক্ষায় আশানুরূপ ফলাফল অর্জনে ব্যার্থ হওয়া, যোগ্যতানুযায়ী কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা না হওয়া, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া, বন্ধুর সঙ্গে সম্পর্ক, এমনকি সহকর্মীদের সঙ্গে সম্পর্ক ভালো না হলে একটা পর্যায়ে গিয়ে হতাশায় ডুবে যান অনেকে।

পরিবার থেকে যদি সারাক্ষন দোষারোপ করতে থাকে, বিপদে পড়লে ব্যক্তি সাহায্য না পায়, তখন ব্যক্তির মধ্যে আত্মবিশ্বাসের অভাব হয়, তখন উদ্যোগ নেওয়া ছেড়ে দেয়। ফলশ্রুতিতে হতাশ হয়ে পড়ে।

হতাশা- আত্মহত্যা- সুস্থতাঃ

বিশ্ব সাস্থ্য সংস্থার মতে প্রতিবছর প্রায় দশ লক্ষ মানুষ আত্নহত্যা করছে। বিভিন্ন কারণেই আত্মহত্যা ঘটতে পারে, তবে সাধারণত,

হতাশা,মানসিক সমস্যা, ও অনেকের ক্ষেত্রে প্রেমের ব্যার্থতায় আবেগের বশবর্তী হয়ে আত্মহত্যার মতো একটি সিদ্ধান্তে ব্যাক্তি পৌছায়। বিশ্বে মহিলাদের তুলনায় পুরুষদের মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতা বেশী দেখা দিলেও বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এ চিত্র বেশ ব্যাতিক্রমী। অধিকাংশ ক্ষেত্রে দেশের উঠতি বয়সী তরুণী মেয়েরাই আত্মহননের মতো একটি কঠোর সিদ্ধান্তে পৌছায়। যার কারন হিসেবে দেখা দেয় হতাশা। দীর্ঘদিনের বিষণ্ণতায় ভোগা, একা থাকা ও পরিবার থেকে মানসিক সহায়তার অভাববোধ। নিজেকে দীর্ঘদীন যাবৎ বাবা মা, বন্ধু বান্ধব বা তার পরিচিত মহলে তুলনামূলক গুরুত্বহীন বা অপ্রয়োজনীয় হিসেবে ধারণা লালন করা থেকে তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার হতে পারে ব্যাক্তি মনে। সাধারণত এ জাতীয় ধারণা কখনো প্রকাশ করার জন্য উপযোগী সময় বা ভরসার কাউকে পেয়ে ওঠে না অনেকেই, নিজের মধ্যেই চেপে রাখতে হয়। যার ফলস্বরূপ নিজেকেই নিজে এ সমাজ ও পৃথিবীর জন্য একেবারে অপ্রয়োজনীয় ভাবতে শুরু করে।

ঠিক এ সময় টাতে নতুন করে স্বপ্ন দেখতে হয়, এ পি জে আবুল কালামের ভাষ্যমতে যে স্বপ্ন আপনাকে ঘুমাতে দেয় না, এই স্বপ্নই আপনাকে অভিজ্ঞ চোখের খানিকটা ভিন্ন ধরনের পৃথিবী দেখাবে।

অভিজ্ঞ চোখের কথা কেন বলছি?

আমরা যারা বিষণ্ণতায় ভুগি তারা প্রায় সকলেই চাই কোনো একজন বিশেষ মানুষ ব্যক্তি আমাকে গুরুত্ব দিক, আমাকে নিয়ে ভাবুক। এই চাওয়াটাই যখন কাঙ্ক্ষিত মানুষ গুলোর কাছ থেকে তৃপ্ত হয় না তখন সে একাকী অনুভব করে। কিন্তু আপনি  অভিজ্ঞ চোখে দৃষ্টি রাখলে দেখতে পাবেন যে মানুষগুলোর কাছে আপনি গুরুত্ব পাওয়া, ভাবনার সাগরে ডুব দেওয়ার আশা করছেন সে সময়ে হয়তো তারাও নিজেদের কোন সমস্যা নিয়ে ব্যস্ত!

এ পৃথিবীর এক কঠোর নিয়ম হলো আমরা সকলে আপন স্বার্থে সদা চিন্তিত। এক কথায় যাকে স্বার্থপর বলা যেতেও পারে। তাই নিজের বিষণ্ণতা থেকে আমাদের নিজেদেরকেই বের করে নিয়ে আসতে হবে, অবলম্বন হিসেবে স্বপ্ন দেখতে হবে যা নতুন করে বাচার অনুপ্রেরণা যোগাবে।

মেনে নিতে হবে, জীবন ভালো ও খারাপ উভয়কে নিয়েই। খারাপ সময়ের স্থায়িত্ব বেশিক্ষণ নয়। আনন্দের মহূর্ত গুলোকে উপভোগ করুন, সংগ্রামের সময় থেকে শিক্ষা নিয়ে ভালো সময় টা কে বেশীক্ষণ ধরে রাখুন।

তবেই বেঁচে যাবে অনেক গুলো উচ্ছসিত সতেজ সবুজ প্রাণ, সুন্দর হবে পৃথিবী, সমৃদ্ধ হবে আমার দেশ।

 

বিঃদ্রঃ বাংলাকোষ কোনো সংবাদপত্র নয়, এটি মূলত একটি আর্কাইভ। বাংলাকোষ এ প্রকাশিত সকল তথ্য কপিরাইট এর অন্তর্ভুক্ত। সুতরাং কোনো পূর্বানুমতি ছাড়া বাংলাকোষের কোনো তথ্য ব্যবহার করা যাবে না। তবে অব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলো সূত্রসহ ব্যবহার করতে পারবে।