স্বতন্ত্র সৌন্দর্যে মন্ডিত বিশ্বকাপানো দুই নারী

নিয়াজ মাহমুদ সাকিব: এটা এখন আর গোপন কিছু নয় যে, সৌন্দর্য বিচারের মানদন্ড মানব ইতিহাসে বেশ কবার বদলেছে। তবে সুখের কথা,এখন মানব জাতি এমন একটা পর্যায়ে এসে পৌছেছে,যেখানে আপনি নির্দ্বিধায় বলতে পারেন যে,প্রত্যেকেই সুন্দর! নিজ নিজ জায়গা থেকে, নিজের মতো করে সবাই সুন্দর! এটা সত্যিই খুব আনন্দের যে, আমাদের এ পৃথিবী খুবই বৈচিত্র্যময়! সাথে মানুষগুলোও।

চলুন জেনে নেয়া যাক স্বতন্ত্র সৌন্দর্যে মন্ডিত সেরকমই কিছু মানুষের কথা!

১ . মারিয়া অজঃ

প্রায় সবাই ই জানে মারিয়া অজ একজন মডেল , যার চেহারা সাধারণের মতো নয় অথচ পুরো মডেল দুনিয়ায় বেশ জনপ্রিয় এবং দীর্ঘ সময় মডেলের দুনিয়ায় এই বড় চোখা চেহারা নিয়েই রাজত্ব করে যাওয়া এক মডেল।প্রযুক্তির লীলাখেলা আর ইন্টারনেটের সহজলভ্যতা যে কাউকেই দিয়ে রেখেছে একই সাথে জনপ্রিয় এবং বিখ্যাত হওয়ার সুযোগ। আর মারিয়া অজ, একজন ইউক্রেনিয়ান ইন্সটাগ্রাম মডেল,কিয়েভ শহরের এই মডেল  এই সুযোগটাই লুফে নিয়েছিলেন, এবং সফলতাও পেলেন আকাশ ছোঁয়া!

তার মৌলিক সৌন্দর্য দিয়েই তিনি জয় করে নিয়েছেন সবকিছু! তবে সবথেকে অবাক করা সৌন্দর্য , তার শুধু বড়ই না, এক কথায়, বিশাল বিশাল দুটো চোখ আছে।তার এই বড় চোখের ব্যাপারটা নাকি জেনেটিক্যালি তার বাবার থেকে আসা। কখনো করেননি সার্জারি, আবার করতেন না কোনো গ্রাফিক্সের ও ব্যবহার! কিন্তু রাতারাতিই সেলিব্রেটি বনে যান! অস্বাভাবিক চেহারার জন্য অনেক কিছু সহ্য করতে হলেও দমে যাবার পাত্রী তিনি নন! আপাতত কাস্টিং এজেন্সিগুলো বলছে, সে আসলে যথেষ্ট লম্বা নয়! তাই তার জায়গা পাওয়াটা মুশকিল ই বটে! কিন্তু এতে তার জনপ্রিয়তা কোনো অংশে কমে যায়নি! বরঞ্চ জাপানিজ কার্টুন হিরোইনদের সাথেই তুলনা করা হচ্ছে তাকে!

 

২. হারনাম কওরঃ আপনি কি মনে করেন, দাঁড়ি শুধু পুরুষদের জন্যই! ভুল ভাবছেন এবং আপনি তাহলে হারনাম কওর এর কথা জানেন না! হারনাম কওর, একজন ব্রিটিশ মডেল এবং এখন পর্যন্ত পৃথিবীতে সর্বোচ্চ জনপ্রিয় দাঁড়িওয়ালা নারী। হারনাম এখন মাত্র ২৮ বছর বয়সী একজন নারী তবে তার দাঁড়ি ওঠা শুরু করেছিল যখন তার বয়স মাত্র ১২। সে সময়ে তিনি এক জটিল রোগে আক্রান্ত হন,যে রোগে শরীরে হরমোনের ভারসাম্য ঠিক থাকেনা!

ধীরে ধীরে লোম বাড়া শুরু করে তার বাহুতে, এমনকি বুকেও! এতটুকু বয়সে নিজেকে নিয়ে বেশ বিপাকেই পড়েছিলেন তিনি! উত্যক্ত সহ্য করায় তো আর কোন মাফ নেই! সঙ্গে ছিল ওয়েব পেইজ এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানাবিধ হুমকি! জঙ্গী হামলার হুমকিও পেয়েছিলেন বেশ কবার! তিনি তার দাঁড়ি নিয়ে এত লজ্জায় পড়েছিলেন যে, শেইভ করে কিংবা ঔষধ ব্যবহার করে তিনি দাঁড়ি ওঠা বন্ধ করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু কিছুতেই কিছু হয়নি! ধীরে ধীরে মেনে নিলেন তার স্বতন্ত্র সৌন্দর্য আর নিজস্ব মৌলিকত্ব। শুরু করলেন দাঁড়ির যত্ন নেয়া।

 

হারনাম বলেছেন, “আমি আমার দাঁড়ি রেখে দেয়ার  সিদ্ধান্ত নিয়েছি এবং একজন নারীকে ঠিক কেমন দেখতে হওয়া উচিত ,সে ব্যাপারে সমাজের কুসংস্কারের বিরুদ্ধে দাঁড়াবার প্রত্যয় ব্যক্ত করছি। আমি এখন আর আত্মাহুতির কথা ভাবিনা কিংবা নিজের কোন ক্ষতি কিংবা নেতিবাচক কিছু ভাবিনা। এই দেহ আমার! এছাড়া আমার বাঁচার জন্য কোন দেহ ও নেই! সুতরাং আমি কিছু ভয় করিনা!” হারনাম এখনো অনেক ট্রলের শিকার হন! যাত্রাটা এত সহজ ছিলনা! তবে হারনাম ও বিনা যুদ্ধে নাহি দেবে সূচগ্র মোদিনী। যে যুদ্ধটা একান্তই তাঁর নিজের। নিজের জীবনের।

বিশেষ আরো স্বতন্ত্র সৌন্দর্যের কথা থাকছে পরবর্তী পর্বগুলোতে। বাংলা কোষের সাথেই থাকুন!

বিঃদ্রঃ বাংলাকোষ কোনো সংবাদপত্র নয়, এটি মূলত একটি আর্কাইভ। বাংলাকোষ এ প্রকাশিত সকল তথ্য কপিরাইট এর অন্তর্ভুক্ত। সুতরাং কোনো পূর্বানুমতি ছাড়া বাংলাকোষের কোনো তথ্য ব্যবহার করা যাবে না। তবে অব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলো সূত্রসহ ব্যবহার করতে পারবে।