মুখে না বলেও ভালোবাসার কথা যেভাবে বোঝাবেন

কতবার ভেবেছিনু আপনা ভুলিয়া
তোমার চরণে দিব হৃদয় খুলিয়া।
চরণে ধরিয়া তব কহিব প্রকাশি
গোপনে তোমারে, সখা, কত ভালোবাসি।

রবীন্দ্রনাথের এই গানটি আমাদের সকলেরই প্রিয়। কত শত বার শোনা গানটি যেন আমাদের হৃদয়ের প্রতিধ্বনি। পৃথিবীতে কত হাজারো প্রেমিক অথবা প্রেমিকাকে এই ‘ভালোবাসি’ শব্দ বলার আগে উত্তেজনাময় অথবা দুশ্চিন্তাগ্রস্থ কতটি রাত পার করতে হয়েছে সেটি সম্পর্কে কোনো তথ্যপূর্ণ গবেষণা না হলেও কি করে ভালোবাসি না বলেও ভালোবাসা প্রকাশ করা যায় সে সম্পর্কে সম্প্রতি একটি গবেষণা জার্নাল প্রকাশ করেছে ওয়ান লাভ ম্যাগাজিন টি। সেখানে কয়েকটি উল্লেখযোগ্য উপায়ের সম্ভাবনা প্রকাশ করেছে যেটি কি না ভালোবাসি-র মতো কঠিন শব্দটি না উচ্চারণ করেও প্রিয় মানুষটি কে হৃদয়ের কোণে লুকানো প্রতিটি শব্দ টের পাওয়ানো যায়। ভালোবাসার মহিমা শুধু শব্দতেই কেন ম্রিয়মাণ? চলুন জেনে নেয়া যাক এমন কয়েকটি উপায়।

ছবিঃ মৃণালিনী

১. “হিয়ারিং এন্ড লিসেনিং” এই দুই শব্দের বাংলা অর্থ শোনা, একই হলেও এর গূঢ় অর্থ কিন্তু এক নয়। শ্রবণশক্তি নিয়ন্ত্রণ করতে পারি না আমরা, যেকারণে যেকোনো শব্দ বা আওয়াজ ই আমাদের কানে বাজে। কখনো কখনো বিষণ্ণ দুপুরে ঘুম ঘুম চোখে একঘেয়ে স্যারদের গুনগুন লেকচার ও আমরা না শুনে পারি না। শ্রবণেন্দ্রিয়ের যেনো কোনো ক্লান্তি নেই। এই যে কেবল ইন্দ্রিয় চাইছে বলেই শুনছি সেটিকে আমরা বলতে পারি হিয়ারিং। কিন্তু লিসেনিং- এটি অনন্য একটি উপায় আপনি কি করে বোঝাবেন আপনার সঙ্গী কে ভালোবাসি সেক্ষেত্রে। এই শোনা হলো শুধু যেনো শ্রবণ ইন্দ্রিয় নয়, অবৈজ্ঞানিক, অলিখিত হৃদয় দিয়ে অনুভব করা। আজকাল কে আমাদের ভেতরকার সত্যি কথাটি জানতে চায়? শুনতে চায়? কেবল বলতে পারলেই আনন্দ সকলের। শুনবার মানুষ টি কোথায়? আপনার প্রিয়তমেষুর সত্যিকারের শুনবার মানুষ হতে পারেন আপনি যিনি ভালোবাসি ভালোবাসি বলেও বলতে পারছেন না ছোট শব্দটি কিন্তু হৃদয়ে ঠাঁই বাড়িয়ে নিতে চাইছেন।

 

২. সঙ্গীকে তার কর্মক্ষেত্র বা কর্মপরিকল্পনা নিয়ে সোজাসুজি জিগেস না করে তাদের কাজ কেমন চলছে, অগ্রগতি কেমন এগুচ্ছে সে সম্পর্কে জিগেস করুন। অফিসের নতুন বস কেমন, সহকর্মীরা কতটা সাহায্যপরায়ণ সেটি গল্পের ছলে জিগেস করুন। এই হালকা গল্পের যত্নে ওই মানুষ টির নানান গল্পে নিজের ভালো লাগা মন্দ লাগা উঠে আসবে যেটি আপনাকে তার হৃদয়ের আরো একটু খানি কাছে টানতে সাহায্য করবে।

৩. দিনদিন এতো বেশি প্রযুক্তি নির্ভর আমরা হয়ে পড়ছি যে এটি শুধুমাত্র আমাদের অবসরে সঙ্গী হবার বদলে আমাদের একান্ত সময়েও ভাগ বসানো শুরু করেছে। দুজনের একান্ত সময়েও যখন এই সোশ্যাল মিডিয়া আমাদের মধ্যবর্তী হয়ে উঠছে তখন প্রিয় মানুষটির মধ্যে গুরুত্বহীনতার একটি সন্দেহের উদ্রেক করে। যেটি সম্পর্ককে ঠেলে নিতে পারে ভাঙার দিক। অথচ চাইলেই এই সোশ্যাল কানেকশন থেকে নিজেকে একটু দূরে সরিয়ে দিনের কিছুটা অংশ শুধুমাত্র এবং কেবলমাত্র প্রিয়জনের জন্যে দিলেই খুশি হয়ে উঠবে আপনার মানুষ টি। নিজেকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করার এই প্রয়াসটি আপনার সম্পর্ক ভীত টি শক্ত করতে সাহায্য করবে সন্দেহাতীতভাবে।

 

৪. একটি মানুষ বোধহয় সবচাইতে খুশি হয় তখন যখন আপনার একান্ত কোনো বন্ধু শুধু আপনাকে নয় যত্ন করছে আপনার কাছের বন্ধু, অথবা প্রিয় ভাই অথবা বোন কে। তাদের খোজখবর রাখা অথবা যেকোনো প্রয়োজনে সাহায্যের হাতটি বাড়িয়ে দেয়া এই সহজ কাজগুলো স্বাভাবিকভাবে আপনাকে ওই মানুষ টির নিজস্ব পৃথিবীতে জায়গা করে দিবে। এবং এটি স্বাভাবিকভাবে আপনি যাকে কাছে টানতে চাইছেন তার হৃদয়ে অনেকখানি সাম্রাজ্য বিস্তার করতে সক্ষম হবে।

 

৫. এক সময় ছিলো যখন ডাকপিয়নের গুরুত্ব কারো কারো জীবনে ছিলো সবচেয়ে আবেগের, সবচেয়ে প্রিয় মুহূর্তের। একটি চিঠি পাবার আশায় সকাল দুপুর সুখকর চিন্তায় কাটিয়ে দেয়া তখনকার প্রেমিক প্রেমিকাদের যেনো ছিলো নিত্যদিনের ঘটনা। কিন্তু কালের পরিবর্তন আমাদের জগৎ কে এতোটা নিকটে নিয়ে এসেছে যে সেই আনন্দটুকু হারিয়ে গেছে, ডাকপিয়ন যেনো মিলিয়ে গেছে বাতাসে। কিন্তু আপনি চাইলেই আপনার প্রিয় মানুষ কে সেই আনন্দঘন মুহূর্ত টি, সেই পুরোনো দিনের ক্ষুদ্র কিন্তু হৃদয়ের আলাপন টি লিখে দিতে পারেন ডাকপিয়নের ডাকে। কে বলতে পারে সে মানুষ টি কত প্রহর সে অপেক্ষায় ই বসে আছে কি না?

লেখকঃ খাদিজা তুল কুবরা

বিঃদ্রঃ বাংলাকোষ কোনো সংবাদপত্র নয়, এটি মূলত একটি আর্কাইভ। বাংলাকোষ এ প্রকাশিত সকল তথ্য কপিরাইট এর অন্তর্ভুক্ত। সুতরাং কোনো পূর্বানুমতি ছাড়া বাংলাকোষের কোনো তথ্য ব্যবহার করা যাবে না। তবে অব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলো সূত্রসহ ব্যবহার করতে পারবে।