মিকোইয়ান মি-৩১ বনাম লকহিড নাইটহক-১১৭: স্নায়ুযুদ্ধ আর রহস্যে ঘেরা গোয়েন্দারা (পর্ব- ১)

ছবিঃ উপরে মিকোইয়ান মিগ-৩১ ও নিচে লকহিড ১১৭

নিয়াজ মাহমুদ সাকিব: ছবির এই  বিমান দুটো ছিলো স্নায়ুযুদ্ধের সবচেয়ে আলোচিত যুদ্ধবিমান। একটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত “লকহিড এফ-১১৭ নাইটহক” (যাহা কাগজ -কলমে দুনিয়ার প্রথম স্টিলথ এ্যাটাক বিমান) অর্থাৎ যা কোনো রাডারের আয়ত্তে ধরা পড়বে না বলেই আদতে বিশ্বাস ছিল তৎকালীন মার্কিনীদের।

আরেকটি যুদ্ধবিমান ছিলো মিকোইয়ান মিগ-৩১ সুপারসনিক ইন্টারসেপ্টর এয়ারক্র্যাফট, এটা তৎকালীন সময়ে এতোটাই গোপনীয় ছিলো যে এর ব্লু -প্রিন্ট উদ্ধার করা সি আই এর পক্ষে তখনো সম্ভবপর হয়ে ওঠেনি। মার্কিন স্যাটেলাইট দিয়ে মিকোইয়ান মিগ-৩১ সুপারসনিক ইন্টারসেপ্টর এয়ারক্র্যাফট এর ছবি তোলা হয়েছিলো এবং এটা বুঝতে মার্কিনীদের দেরি হয়নি যে, এটা তখনো কিছুটা অব্যবহৃত যুদ্ধবিমান অর্থাৎ খুব একটা কাজে খাটানো হয়নি এখনো এবং প্রায় নতুন।

দেখতে এই যুদ্ধবিমানটি তেমন আহামরি হয়তো না কিন্তু এই যুদ্ধবিমানকে ঘিরে রহস্য আরো ঘনীভূত হতে থাকে। বিশেষ করে যখন দ্যা কেজিবি বস, ভ্লাদিমির কনস্তান্তিনোভিচ আন্দ্রোপভ নিজে এই প্রোজেক্ট নিয়ে উৎসাহী ছিলেন অতিমাত্রায়।

(যাতে আপনাদের এটা জানাতে আমার সুবিধে হয় যে, স্নায়ুযুদ্ধের অন্যতম আলোচিত মুহূর্ত আসে তখনি যখন লিওনিদ ব্রেজনেভ মারা যান আর দ্যা কেজিবি বস ইউরি ভ্লাদিমিরোভিচ আন্দ্রোপভ ক্রেমলিনের মসনদে আরোহণ করেন। ঐদিকে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট, গত শতাব্দীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ রাজনীতির কবি রোনাল্ড রেগান। রোনাল্ড রেগানের কাছে ইউরি আন্দ্রোপভ ছিলেন, “দ্যা ফেইস অফ ডেভিল”  তথা শয়তানের মুখপাত্র।
তো, কি ছিলো এই মিকোইয়ান মিগ-৩১ সুপারসনিক ইন্টারসেপ্টর এয়ারক্র্যাফট -এ, সেটা জানা যায় সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর। সব রহস্য এর ভেতরেই লুকিয়ে আছে।

খোদ সোভিয়েত ইউনিয়নের ঘনিষ্ঠ কোনো মিত্র দেশকে আজো তারা এটা বিক্রি করে না। কারন হলো এই বিমানের রাডার। রাশিয়াতে এই রাডারের নাম বি আর এল এস এইট বি—- “জ্যালসন” , আর উত্তর আটলান্টিক নিরাপত্তা জোট বা ন্যাটো এর নাম দিয়েছিলো “ফ্ল্যাশ ড্যান্স”। এটা সেইসময়ের বিচারে অত্যাধুনিক পালস ডপলার রাডার, যাতে ছিল “[প্যাসিভ ইলেক্ট্রনিক্যালি স্ক্যানড অ্যারে  এন্টেনা আর ডিজিটাল সিগন্যাল প্রোসেসিং]।

মাত্র ১৬  বর্গমিটার ক্রস সেকশনও অনায়াসে এটা নিজের আওতায় রাখতে পারতো ২০০ কিলোমিটার দূর থেকে এবং এর দিকে ছুঁড়ে দেয়া ১০ খানা মিসাইল সে একসাথে ট্র্যাক করতে পারতো। ট্র্যাক করতে পারতো, এখনো পারে এবং বহাল তবিয়তে রাশিয়ার বিমান বাহিনীতে মিকোয়ান মিগ থার্টি ওয়ান উড়ছে। এটাকে অনেক উন্নত করা হয়েছে পূর্ব থেকে, এখনো চলছে উন্নয়ন এবং আরো করা হবে। একে ঘিরে রহস্য থেকেই যাবে।

রাডারটি বিমানের একটি ল্যান্ডমার্ক ছিলো কারণ এটি প্রথমবারের মতো প্যাসিভ ইলেক্ট্রনিক্যালি স্ক্যানড অ্যারে সংবলিত রাডার যা (পূর্বে গ্রাউন্ড ভিত্তিক সিস্টেমে বা বড় বোমারের উপর পাওয়া যায়) জেট ফাইটারে ইনস্টল করা হয়েছিল।

সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর ১৯৯১ সালেই  ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে এক বিমান প্রদর্শনীতে প্রথম বিশ্ববাসীর সামনে প্রকাশ করা হয়েছিল বিশেষ এই বিমান এবং সেই বিমান শো তে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের লকহিড এফ-১১৭ নাইটহক ও ছিলো (লকহিড মার্কিন এফ বাইশ র‍্যাপ্টর যুদ্ধবিমান তখনো আসে নি)। তো, সোভিয়েত ইউনিয়ন মার্কিনীদের চ্যালেঞ্জ করেছিলো সেই বিমান শোতে যে, লকহিড এফ-১১৭  মার্কিনীরা উড়াইবে, আর সোভিয়েত ইউনিয়নের মিকোইয়ান মিগ থার্টি ওয়ান দিয়ে অনায়াসে তারা সেটা ধরে ফেলবে। সোভিয়েত ইউনিয়নের করা ওপেন চ্যালেঞ্জে মার্কিনীরা সায় দেয়নি। হয়তো নিজেদের সম্মান বাঁচাতে, যদি চ্যালেঞ্জে দেখা যায় অনায়াসে মিকোইয়ান মিগ থার্টি ওয়ান ঘায়েল করে দিচ্ছে লকহিড ১১৭ কে।

তাহলে আর এটার নামের আগে কেউ কখনো স্টিলথ এ্যাটাক এয়ারক্রাফট বলবে না। স্বাভাবিক!

যাই হোক, এখন এক অন্য জ্যাসলন আলোচনায় এসেছে। এরা আবার মানুষ। জ্যাসলন হলো রুশ স্পাই এজেন্সি Foreign Intelligence Service of the Russian Federation SVR RF এর কিলিং স্কোয়াড। এদেরই প্রায় ২৮০ জন গুপ্তঘাতককে নিযুক্ত করা হয়েছে সিরিয়াতে । একহাজার এর মতো রুশ নাগরিক ইসলামিক স্টেট অব ইরাক এন্ড দ্য লেভান্ট (সংক্ষেপে আইসিল) -এ যোগ দিয়েছে, সম্ভবত এদের কাজই শুধু ,তারা যাতে আর জীবনে রাশিয়ায় ফিরতে না পারে, তা নিশ্চিত করা।

বিঃদ্রঃ বাংলাকোষ কোনো সংবাদপত্র নয়, এটি মূলত একটি আর্কাইভ। বাংলাকোষ এ প্রকাশিত সকল তথ্য কপিরাইট এর অন্তর্ভুক্ত। সুতরাং কোনো পূর্বানুমতি ছাড়া বাংলাকোষের কোনো তথ্য ব্যবহার করা যাবে না। তবে অব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলো সূত্রসহ ব্যবহার করতে পারবে।